
লিটন হোসাইন জিহাদ: সুদানের রক্তাক্ত মাটিতে এক শিশু তার মৃত মায়ের দেহ টেনে নিচ্ছে। পৃথিবীর এই নীরব দৃশ্য আজ মানব সভ্যতার চূড়ান্ত ব্যর্থতার ঘোষণা দিচ্ছে। মায়ের নিথর দেহ, শিশুর ভাঙা মন—এই ছবিটি শুধু এক পরিবারের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির লজ্জার প্রতিচ্ছবি।
যুদ্ধ কখনোই কেবল রাজনীতির ঘটনা নয়—এটি ছিন্ন করে দেয় জীবনের শিকড়, নষ্ট করে দেয় মায়ের কোল, শিশুর হাসি, বৃদ্ধের শান্তি। সুদানে যা ঘটছে, তা কোনো দূরদেশের গল্প নয়; এটি আমাদের নৈতিক বিবেকের ভাঙন। ক্ষমতার লোভ আর জাতিগত সহিংসতা আজ এমন এক দানবে পরিণত হয়েছে, যার পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর মানবতা।
এই শিশু জানে না কে দায়ী তার মায়ের মৃত্যুর জন্য। সে জানে না রাজনীতি, জানে না ধর্ম, জানে না ক্ষমতার খেলা। সে শুধু জানে—মা নেই। আর এই জানাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম সত্য।
বিশ্বজুড়ে সভ্যতার বড়াই করা মানুষগুলো আজ নীরব। জাতিসংঘের সভা, আন্তর্জাতিক কনভেনশন—সবই যেন কাগুজে বিবৃতি। অথচ বাস্তবতা হলো—সুদানে একেকটি শিশুর চোখে শুকিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ, একেকটি মায়ের নিথর দেহের পাশে নিভে যাচ্ছে আগামী প্রজন্মের আলো।
যুদ্ধ কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে না, বরং তা জন্ম দেয় নতুন অবিচারের। মানবতার নামে যুদ্ধ নয়, মানবতার জন্য শান্তি চাই। পৃথিবীর কোনো শিশুই যেন মায়ের মৃত দেহ টেনে নিতে বাধ্য না হয়—এই হোক আমাদের প্রতিবাদ, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
