পৌষের শীতে সিংড়ায় ফুটপাতে গরম কাপড় কেনাবেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতা

লেখক: মোঃ ইব্রাহিম আলী
প্রকাশ: ৮ মাস আগে
পৌষের শীতে সিংড়ায় ফুটপাতে গরম কাপড় কেনাবেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতা

 

 সিংড়া নাটোর প্রতিনিধি:পৌষ মাসের কনকনে শীতে যবুথবু হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। আর এ চাহিদা মেটাতে সাশ্রয়ী দামের আশায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ ছুটছেন সিংড়ার ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে।

নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোড এলাকায় ফুটপাতজুড়ে বসেছে ১৫ থেকে ২০টি অস্থায়ী নতুন ও পুরাতন শীতবস্ত্রের দোকান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় এসব এলাকা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পুরাতন শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আধা পুরাতন কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় এবং নতুন শীতবস্ত্রের দাম ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। কম দামে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ এসব দোকানে বেশি।

সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, তার দোকানে দেশি-বিদেশি নতুন ও পুরাতন সব ধরনের শীতের কাপড় রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের মোকাম থেকে মাল এনেছেন। শুরুতে বেচাকেনা কম হলেও গত দুই দিন ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা করছেন তিনি।

ফুটপাতের পাশাপাশি সিংড়া পৌর শহরের বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতেও শীতবস্ত্র কেনার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকানগুলোতে হুডি, মোটা গেঞ্জি, জ্যাকেট, সুয়েটার, মেয়েদের কার্ডিগান, শর্ট কোর্ট, বেলবেড জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, শিশুদের শীতের জামা, কানটুপি, মাফলার ও মোজাসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

দাম যাচাই করে দেখা যায়, হুডি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মোটা গেঞ্জি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, মেয়েদের কার্ডিগান ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা, সুয়েটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মোটা জ্যাকেট ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কানটুপি ৬০ থেকে ১২০ টাকা, মাঙ্কি টুপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শর্ট কোর্ট ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিশুদের শীতের পোশাক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পা মোজা ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফুটপাত থেকে শীতের কাপড় কিনতে আসা নুরজাহান খাতুন বলেন, ছোট ছেলে-মেয়ের জন্য কিছু শীতের কাপড় কিনেছি। বাজেট কম হওয়ায় মার্কেটে যাইনি। এখান থেকে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতে পেরেছি।
অটো রিকশাচালক খাদেম আলী জানান, দরদাম করে ৩২০ টাকায় আধা পুরাতন একটি জ্যাকেট কিনেছি। জ্যাকেটটি বেশ মোটা। আশা করছি এবারের শীতটা এ দিয়েই ভালোভাবে পার করা যাবে।

কলেজ রোড এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী তারেক রহমান বলেন, গত বছর অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শীতের কাপড়ের বেচাকেনা ভালো ছিল। তবে এবছর পৌষ মাসে এসে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শীত যত বাড়ে বিক্রিও তত বাড়ে। সারা বছরের তুলনায় শীতের তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। চলতি মৌসুমেও ভালো বিক্রির আশা করছেন তিনি।

  • ফুটপাতে গরম কাপড়