সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার, সাত মাসে ছয় হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার, সাত মাসে ছয় হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন

সাভার মডেল থানার মাত্র কয়েকশ গজ দূরে, সাভার প্রেসক্লাবের পাশেই অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার গত সাত মাস ধরে ছিল নীরব এক আতঙ্কের কেন্দ্র। একের পর এক মানুষ নিখোঁজ হলেও কেউ ভাবতে পারেনি, সেখানে সংঘটিত হচ্ছে ধারাবাহিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অবশেষে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অজ্ঞাত রহস্যের পর্দা সরে যায়। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

হত্যাকারী কোনো পেশাদার অপরাধী বা বহিরাগত নয়, বরং থানার আশপাশেই ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করা এক পরিচিত মুখ। সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীর ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁধে করে মরদেহ বহন করছে। স্থানীয়দের কাছে সে পরিচিত ছিল নিরীহ ভবঘুরে হিসেবেই। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, গত সাত মাসে একই স্থানে ছয়জন ভবঘুরে ও অসহায় মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ধরন ছিল প্রায় একই, যা তাকে একজন মানসিক বিকৃত বা সাইকোপ্যাথিক সিরিয়াল কিলার হিসেবে চিহ্নিত করে। দৈনিক মানবজমিন-এর প্রতিনিধি সোহেল রানার ধারণ করা একটি ভিডিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই ভিডিওতে নিজেকে ‘সোনিয়া’ নামে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে সম্রাটকে দেখা যায়। মাত্র দুদিন পরই ওই নারীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। ভিডিও ও সিসিটিভির দৃশ্য মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়।

থানা, সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের কাছাকাছি এলাকায় এমন ধারাবাহিক খুনের ঘটনায় পুরো সাভারজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মানসিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এলাকাটি বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।