বিএনপি ছাড়া জনগণের সামনে দেশ পরিচালনার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিতে পারেনি কেউ: তারেক রহমান

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
বিএনপি ছাড়া জনগণের সামনে দেশ পরিচালনার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিতে পারেনি কেউ: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ছাড়া এখন পর্যন্ত দেশের মানুষের সামনে দেশ পরিচালনার সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল উপস্থাপন করতে পারেনি। তার অভিযোগ, অনেক রাজনৈতিক দল পরিকল্পনা দেওয়ার পরিবর্তে শুধু বদনাম ও সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এইচ. জে. পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের মানুষের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব। বিএনপির দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা জানি কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয় এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হয়।’

দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘আমরা কখনো বলিনি ফ্যামিলির সব দায়িত্ব সরকার নেবে। ধাপে ধাপে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা হবে। একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।’

কৃষকদের প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘কেউ কেউ বলছে আমরা ধোঁকা দিচ্ছি। আমি যদি ধোঁকা দিই, তাহলে পরবর্তী সময়ে জনগণ আমাকে বিশ্বাস করবে না। রাজনীতিতে কথা দিয়ে কথা রাখতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং সরকার গঠন করতে পারলে চৌদ্দগ্রাম থেকেই খাল খননের উদ্বোধন করা হবে।

বেকারত্ব নিরসনে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ভাষা শিক্ষা চালু করা হলে তারা আরও ভালো চাকরি পাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে উৎপাদন করা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা ও পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

ধর্মীয় সেবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে এখানে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু তাতে মানুষের কোনো উপকার হবে না। গীবত করে মানুষের পেট ভরবে না। মানুষ জানতে চায়—আমি তাদের জন্য কী করতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। ‘মানুষ চায় পরিবার নিয়ে নিরাপদে ভালো থাকতে। আমরা সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই।’

সমাবেশ শেষে তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন।

এর আগে দুপুর থেকেই চৌদ্দগ্রাম এইচ. জে. পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছালে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী মো. কামরুল হুদা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতা কাজী নাহিদ।