
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভোটের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—তা হলো গণভোট। আমরা চাই ভবিষ্যতেও জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো ভোট থেকে বঞ্চিত না হতে চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।”
চাকরি ও সুশাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যদি শেখ হাসিনার মতো আর কোনো স্বৈরাচার ভবিষ্যতে দেখতে না চান, যারা আমাদের সন্তানদের রক্ত ঝরিয়েছে—তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। যদি ঘুষ ছাড়া, মামা-চাচা ছাড়া চাকরি পেতে চান—হ্যাঁ ভোট দিন। ব্যাংকে রাখা মানুষের আমানত নিরাপদ রাখতে চাইলে, ব্যাংক লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে চাইলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচার বন্ধ করতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিন। মা-বোনদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিন। আমরা দেখছি, একটি দলের নেতা মা-বোনদের বিবস্ত্র করার ঘোষণা দিচ্ছে। যারা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাবে, ১১ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কালো হাত গুঁড়িয়ে দেবে—ইনশাআল্লাহ।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া সবসময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিল। এটি আন্দোলনের দূর্গ। দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দেশপ্রেমিক জনগণ জীবন দিয়ে ভূমিকা রেখেছে। অথচ ফ্যাসিবাদী সরকার এই জেলার মানুষকে বঞ্চিত করেছে ও বৈষম্য করেছে।”
আলেম-ওলামা ও কওমী শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জীবন দিতে কখনো পিছপা হননি। অথচ তাদের নানা ট্যাগ দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আলেম-ওলামাদের পিছনে রেখে বাংলাদেশ সামনে এগোতে পারে না। আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে কওমী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, ইসলামি গবেষণা, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কওমী শিক্ষার্থীদের আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে আলাদা করে দেখবো না।
পদযাত্রার শেষে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মো. আতাউল্লাহকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরেন।
নির্বাচনি পদযাত্রায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাসিন হাসান, জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আলী এবং এনসিপির জেলা সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
