মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীর টাকা ছিনতাইয়ের নাটক: ভায়রা ভাইসহ তিনজন গ্রেফতার, ১ লাখ টাকা উদ্ধার

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীর টাকা ছিনতাইয়ের নাটক: ভায়রা ভাইসহ তিনজন গ্রেফতার, ১ লাখ টাকা উদ্ধার।

প্রবাসী ভাইয়ের কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাতের জন্য ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ধরা পড়লেন তারই ভায়রা ভাইসহ তিনজন। পুলিশের চৌকস অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন তারা, উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া টাকার এক লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানা এলাকায়, যা এখন স্থানীয়দের  মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে, রিকাবী বাজারস্থ সিটি ব্যাংক থেকে প্রবাসী কাইয়ুম খান (৩৮) তার পরিবারের জন্য পাঠানো ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তার ভায়রা ভাই শাহজালাল ওরফে সাহা (৩৮)। কাইয়ুমের বাবা মৃত আবুল খান, এবং বাড়ি শিলি দেওয়ান কান্দি গ্রামে, মুন্সীগঞ্জে। টাকা উত্তোলনের পর সাহা তার স্ত্রী এবং প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম (৪৫)-এর সঙ্গে ব্যাটারি চালিত মিশুক যোগে টঙ্গীবাড়ী থানাধীন সেরাজাবাদের দিকে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে, আলদী থেকে সেরাজাবাদ যাওয়ার পাকা সড়কের ঋষিবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে পৌঁছালে, দুজন অজ্ঞাত ছিনতাইকারী মুখবন্ধ মোটরসাইকেল যোগে এসে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর হালিমা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নং-১২(০১)২০২৬ দায়ের হয়।

পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফিরোজ কবির এবং সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অনুসন্ধান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং আসামিদের সনাক্ত করা হয়।
অভিযানে গ্রেফতার হন: ১) শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা (৩৮), পিতা- আজিজ হালদার, বাড়ি ধোপড়া পাশা; ২) খোকন হালদার (৩২), পিতা- মোসলেম হালদার, বাড়ি বেশনাল; ৩) ইকবাল হোসেন (৩০), পিতা- হাজী মোঃ আহমেদ ঢালী, বাড়ি পুরা। সবাই টঙ্গীবাড়ী থানা এলাকার বাসিন্দা, মুন্সীগঞ্জ জেলা।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন যে, শাহজালাল ওরফে সাহা নিজেই এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যাগটি নিজে বহন করছিলেন এবং তার দুই বন্ধু খোকন এবং ইকবালকে নির্দেশ দেন যাতে তারা মিশুক যাওয়ার সময় ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। সাহা কোনো প্রতিরোধ না করে সহজেই ব্যাগ ছেড়ে দেন, যাতে ছিনতাইয়ের নাটক সফল হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা টাকা ভাগ করে নেন। পুলিশের অভিযানে ছিনতাই হওয়া ১০ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অবশিষ্ট টাকার অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে এবং শীঘ্রই উদ্ধার সম্ভব বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনা প্রবাসীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার এমন উদাহরণ স্থানীয় সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকা: ১. লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা; ২. ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, “এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আমরা সতর্ক রয়েছি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রবাসীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।” স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনা তাদের এলাকায় অভূতপূর্ব। প্রবাসী কাইয়ুম খানের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। হালিমা বেগমের এজাহারের ভিত্তিতে মামলা চলছে, এবং আসামিরা রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। পুলিশের এই সফল অভিযান প্রশংসনীয়। মুন্সীগঞ্জ পুলিশের এই কার্যক্রম অন্যান্য জেলায়ও অনুসরণীয় হতে পারে। ছিনতাইয়ের নামে আত্মসাতের এমন চক্রান্ত প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

প্রবাসী কাইয়ুম খান বিদেশ থেকে খবর পেয়ে শোকাহত। তিনি বলেন, “আমার কষ্টের টাকা এভাবে আত্মসাতের চেষ্টা অমানবিক। পুলিশকে ধন্যবাদ যে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এই মামলায় আরও আসামি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। অনুসন্ধান চলমান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া টাকা এখন পুলিশের হেফাজতে। আদালতের নির্দেশে এটি প্রবাসীর পরিবারকে ফেরত দেওয়া হবে। ছিনতাইয়ের নাটকের এই ঘটনা সবাইকে সতর্ক করেছে।