
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারত সীমান্তকে ব্যবহার করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র আনা–নেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পরিচিত নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের ভূমিকা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনার পর দুই ব্যক্তি—লায়ন শাকিল ও তার সহযোগী আরিয়ান—নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, তারা আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম দৃষ্টি’ দাবি করেছে, কসবা উপজেলা হয়ে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পার হতে তাদের সহায়তা করা হয়। এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি ভাই–বোন নেতৃত্বাধীন চক্র দীর্ঘদিন ধরে কসবা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সীমান্তের ওপারে তাদের অবস্থান থেকে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশের আশঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে—যা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।
