শেরপুরে ট্রাঙ্কে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: স্বামী-স্ত্রীর রহস্যময় খুনের ছক ফাঁস
শ্রীবরদী উপজেলার তালাবদ্ধ ট্রাঙ্ক থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, টাকার দরকষাকষিকে কেন্দ্র করেই ওই নারীকে হত্যা করা হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, হত্যার ঘটনায় জড়িত স্বামী-স্ত্রী—নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও রিক্তা মনি (২৬)—কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত নারী ডলি আক্তার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। পিকআপচালককে আটক করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পিবিআই জানায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন নাহিদ ও তার স্ত্রী। গত ৩০ মার্চ রাতে স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে নাহিদ অনৈতিক কাজের জন্য ডলি আক্তারকে বাসায় নিয়ে যান। পরে টাকার অঙ্ক নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পরে স্ত্রীকে ঘটনাটি জানিয়ে মরদেহ গোপনের পরিকল্পনা করেন নাহিদ। দু’জনে মিলে একটি বড় ট্রাঙ্ক কিনে মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে ভেতরে রাখেন। পরে পিকআপভ্যানে করে শেরপুর জেলার নির্জন এলাকায় এনে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ওই ট্রাঙ্ক থেকে মরদেহ উদ্ধার হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনে।
পিবিআই জানিয়েছে, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
