
সালথা–নগরকান্দা আসনে ভোটের মাঠে নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আসনটির দলীয় প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। এ পরিস্থিতিতে আজ রাত থেকে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত প্রতিটি গ্রামে সতর্ক পাহারার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে নুরুউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রিংকু বলেন, গভীর রাতে অচেনা লোকজন গ্রামে ঢোকে। তারা কোনো ভালো উদ্দেশ্যে আসে না। ভোট নষ্ট করাই তাদের লক্ষ্য। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যেন ধানের শীষের একটি ভোটও নষ্ট না হয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের সময় খুব কাছাকাছি। “আমি একা প্রার্থী নই, আপনারা সবাই প্রার্থী। আপনারা প্রত্যেকে রিংকু হয়ে ঘরে ঘরে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেবেন। ১২ তারিখ সকালে আগে ভোট দেবেন, তারপর অন্য কাজ করবেন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব।”
ধানের শীষকে উন্নয়নের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধানের শীষ শুধু একটি মার্কা নয়, এটি উন্নয়নের বার্তা। আমরা জিতলে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, হাসপাতালসহ এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। আমি আপনাদের বোন হিসেবে কথা দিচ্ছি—বেঁচে থাকলে এখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, সালথা-নগরকান্দায় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে, যাতে স্থানীয় যুবসমাজকে আর বাইরে যেতে না হয়। বিশেষ করে উৎপাদিত পাটকে কেন্দ্র করে কল-কারখানা স্থাপন করলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ভোটারদের সতর্ক করে রিংকু বলেন, মা-বোনদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড চাওয়া বেআইনি। কেউ এমন চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা সেনাবাহিনীকে জানাতে হবে।
সততা ও নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুনাফেকি দিয়ে কোনো এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। “আমার পরিবার কখনো মিথ্যার সঙ্গে আপস করেনি। আমিও ১৭ বছর ধরে কারো সঙ্গে মুনাফেকি করিনি। আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই সালথা-নগরকান্দা পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সালথা-নগরকান্দা গড়তে চায়। “যে দলেরই হোক, কেউ দুর্নীতি বা দখলবাজি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে কেউ পার পাবে না।”
গট্টি ইউপি সদস্য নূরদ্দিন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উঠান বৈঠকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, সাবেক গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন, তারা মিয়া, রেজাউর রহমান, চয়ন মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু, গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিল্লাল মাতুব্বর, বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ নুরু, জাকির হোসেন, চাঁন মিয়া, আব্দুর রব, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, মিরান হুসাইনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
