মাহে রমজানে কোরআন তিলাওয়াত বেশি করবেন যে কারণে

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
আরবি মাসগুলোর মধ্যে নবম মাস মাহে রমজান—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অনন্য এক সিজদার সময়। দীর্ঘ এক বছর পর এই মহিমান্বিত মাস ফিরে এলে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল জাগে। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় এবং বান্দাদের জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তাই রমজান কেবল রোজার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ।

আরবি মাসগুলোর মধ্যে নবম মাস মাহে রমজান—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অনন্য এক সিজদার সময়। দীর্ঘ এক বছর পর এই মহিমান্বিত মাস ফিরে এলে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল জাগে। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় এবং বান্দাদের জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তাই রমজান কেবল রোজার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ।

কোরআন নাজিলের মাস—তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব

রমজানকে অন্য সব মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে এ কারণে যে, এ মাসেই বিশ্বমানবের হিদায়াতের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন—

“রমজান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথপ্রদর্শন এবং সুপথের উজ্জ্বল নিদর্শন ও হক-বাতিলের পার্থক্যকারী কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।”
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫

যে মাসে কোরআনের আগমন, সে মাসে কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নই হবে সবচেয়ে বড় আমল—এটাই স্বাভাবিক। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিগণ রমজানে অধিক পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত করতেন। কেউ সাত দিনে, কেউ দশ দিনে কোরআন খতম করতেন। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর জীবনী থেকেও জানা যায়, তিনি রমজানে দিনে একবার এবং রাতে তারাবিতে নিয়মিত খতম করতেন।

দিনে তিলাওয়াত, রাতে তারাবি ও কিয়ামুল লাইল—সব মিলিয়ে রমজান হয়ে ওঠে কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক নবায়নের মাস।

লাইলাতুল কদর—হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর—হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক বরকতময় রজনী। এক রাতের ইবাদতে হাজার মাসের সওয়াব—এ যেন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। উম্মতে মুহাম্মদীর গড় আয়ু কম হওয়ায় আমলের পাল্লা ভারী করার এই সুযোগ আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত। তাই এ মাসে কোরআনের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করা আরও জরুরি।

 রোজা ও কোরআনের শাফায়াত

হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, ‘হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলায় খাদ্য-পানীয় থেকে বিরত রেখেছি।’ কোরআন বলবে, ‘আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি।’ তখন উভয়ের শাফায়াত কবুল করা হবে (মুসনাদে আহমদ)।

রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” তাই রমজান হলো কোরআন শেখা, শিখানো ও জীবনে বাস্তবায়নের সেরা সময়।

 কোরআন থেকে দূরে থাকার পরিণতি

পবিত্র কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে—

“রাসূল বলবেন, হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো এই কোরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছিল।”
—সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৩০

আরও বলা হয়েছে—

“যে আমার জিকির (কোরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে।”
—সূরা ত্বোহা, আয়াত ১২৪

এই সতর্কবাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কোরআন থেকে দূরে থাকা মানে হিদায়াত থেকে দূরে থাকা।

রমজান হোক কোরআনের মাস

রমজান মাসে সিয়াম যেমন অপরিহার্য, তেমনি কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নও অনন্য ফজিলতপূর্ণ আমল। এ মাসে বেশি বেশি কোরআন পড়া, অর্থ বোঝা এবং জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা উচিত। কারণ কোরআনই আমাদের আদি নিবাস জান্নাতুল ফেরদাউসের পথে একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশিকা।

আসুন, রমজানকে কোরআনের মাস হিসেবে গ্রহণ করি। কোরআনের আলোয় নিজেদের জীবন আলোকিত করি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআনপ্রেমী বান্দা হিসেবে কবুল করুন এবং এই রমজানকে আমাদের নাজাতের কারণ বানান। আমিন।