
ইসলামে সালাতুল হাজত হলো এমন একটি নফল নামাজ যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য আদায় করা হয়। কোনো হালাল চাহিদা, শারীরিক বা মানসিক কষ্ট, কিংবা নেক ইচ্ছে পূরণের উদ্দেশ্যে এই নামাজ পড়া যায়। এটি কেবল ইবাদতের অংশ নয়, বরং মানুষের মানসিক শান্তি এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা জোরদার করার মাধ্যমও বটে।
কতো রাকাত পড়বেন: সাধারণভাবে দু’রাকাত নফল নামাজ।
নিয়ত ও অজু: অন্য নফল নামাজের মতোই অজু করে হাজতের নিয়তে নামাজ আদায় করবেন।
নিষিদ্ধ সময়: সাধারণ নফল নামাজের নিষিদ্ধ সময় ছাড়া কোনো সময়েই পড়া যায়।
সালাতুল হাজতের শেষে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ ও ছানা) এবং নবী করিম (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠের পর নিজের মনের কথা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হবে। বিশেষ করে এই দোয়া মুনাজাতে পড়া যায়:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ:
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্কিনা আজাবানা নার। অথবা আরও বিস্তৃত দোয়া হিসেবে:
الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لَا تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আছআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিক; ওয়াআজা-ইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গানিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াসাতা মিন কুল্লি ইছমিন লা তাদাঅলি- জাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হাজাতান হিয়া লাকা রিজান- ইল্লা কাজাইতাহা ইয়া আর হামার রাহিমীন।
সালাতুল হাজত হলো আল্লাহর প্রতি ভরসা ও নিজের প্রার্থনার প্রকাশের সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। যেকোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা পূরণের জন্য এটি আদায় করলে আত্মিক প্রশান্তি, মানসিক শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা সম্ভব।
সূত্র: ইবনু মাজাহ [হাদীস: ১৩৮৫], তিরমিজি, মিশকাত [হাদীস: ৮৭৩], আবু দাউদ [১৩১৯]
