স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ১ মাস আগে
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে সরকারি সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

এর আগে জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন এবং আগামীকালই বিষয়টি জানা যাবে। একইসঙ্গে সংসদ উপনেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

চিফ হুইপ জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদে আচরণ, কার্যক্রম পরিচালনা এবং কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বর্তমানে সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই প্রথমে খালি চেয়ার দিয়েই অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সভার সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব দেবেন এবং অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর সেই সভাপতির অধীনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখিয়ে জামায়াতকে এই পদ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। সাড়া পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নূরুল ইসলাম মনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল সংসদে উত্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল (ল্যাপস) হবে।

প্রথম দিনের অধিবেশনেই কার্য উপদেষ্টা কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি ও হাউস কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এরপর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর পাঁচজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

চিফ হুইপ জানান, অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া, জুলাইয়ের আন্দোলনের যোদ্ধা, দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং বিদেশি বিশিষ্টজনদের স্মরণ করা হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা এখনো শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লিখিত বক্তব্যে চিফ হুইপ বলেন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদ শুধু একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

তিনি বলেন, নতুন এই অধিবেশনকে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক এবং সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমেই জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের অঙ্গীকার। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।