দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল থেকে মানুষের ঢল নামে। শিশু-কিশোর, গৃহবধূ ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই হাত নেড়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। গ্রামটি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধুমাত্র জনসমুদ্রের কারণে নয়, ইতিহাসের দীর্ঘসূত্রের পুনরাবৃত্তির জন্যও।
প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে সাহাপাড়া খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন। স্থানীয় ৭৪ বছর বয়সী কুলসুম বেগম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে।” তিনি জানান, শহীদ জিয়া মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন।
সোমবার দুপুরে তারেক রহমান ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।
সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে নেতাকর্মীদের ফুলেল অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে সৈয়দপুর শহর অতিক্রম করে তিনি দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া পৌঁছান। পথে স্থানীয়রা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, শহরজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে খালের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শিউলী খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, “খালটি পুনঃখনন হলে আমাদের জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে। বর্ষার সময়ে জলাবদ্ধতা কমবে।” খালটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত, যা দিনাজপুরে প্রবেশ করে মহানন্দা নদীতে মিশে যায়।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, “খালে পানি থাকলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ হলে সুবজ বনায়ন হবে। এটি গ্রামকে নতুন দিক দেবে।” অনিতা নামের এক নারী স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নিতে পেরে বলেন, “আজ আমাদের খুশির দিন। আমাদের লিডার এসেছে, হৃদয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
স্থানীয়রা তারেক রহমানএর এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র খাল পুনঃখনন হিসেবে দেখছেন না; তারা এটিকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও ইতিহাসের সাথে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর গোরস্তানে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।










