
মাধবপুরে ভুয়া নাগরিকত্ব দেখিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর সরকারি চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে ক্ষিতিশ রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১৯৮৯ সালে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে “সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক” পদে যোগদান করেন তিনি। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি নিজেকে মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষিতিশ রায় মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের প্রকৃত বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর ঠিকানা মাধবপুর বাজার উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। পেনশন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আদাঐর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নিজেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক হিসেবে দেখিয়ে একটি নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ—চেয়ারম্যানকে ভুল তথ্য দিয়ে তিনি সনদ সংগ্রহ করেন।
আদাঐর ইউনিয়নের কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও অন্যান্য জেলার লোকজন মাধবপুরের ভুয়া নাগরিকত্ব নিয়ে চাকরি করছেন, যার ফলে স্থানীয়রা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারও প্রতারিত হচ্ছে।
আদাঐর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুই যুবক জানান, ওই ওয়ার্ডে ক্ষিতিশ রায় নামে কোনো ব্যক্তি কখনোই বসবাস করেননি।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শুভাশ চক্রবর্তী জানান, “ক্ষিতিশ রায় মূলত বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের বাসিন্দা। তবে তাঁর আদাঐর গ্রামে কিছু জমি আছে। তিনি কীভাবে নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছেন সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুনা আক্তার জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষিতিশ রায়কে চেনেন না, তবে তাঁর আদাঐর গ্রামে জমি রয়েছে বলে শুনেছেন।
আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর খুরশিদ আলম বলেন, “ক্ষিতিশ রায় নামে একজন ব্যক্তি নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছেন। পরে জানতে পারি তিনি তথ্য গোপন করেছিলেন।”
অভিযোগ সম্পর্কে ক্ষিতিশ রায় জানান, “আমি আদাঐর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক। তবে বর্তমানে সাতবর্গ গ্রামে বসবাস করি।”
