বাউফলে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ঘরে আগুন, উত্তেজনা এলাকায়
পটুয়াখালীর বাউফলে রবিন হাওলাদার হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটেছে নতুন ঘটনা। মামলার আসামিদের একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের উত্তর কালাইয়া গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আসামিপক্ষের একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
নিহত রবিন হাওলাদারের ভাই শুভঙ্কর হাওলাদার জানান, সেদিন রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক শ্মশানে রবিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসামিদের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
তবে ঘটনাটিকে রহস্যজনক দাবি করে শুভঙ্কর বলেন, “এটি আসামিপক্ষের সাজানো নাটক হতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন দিতে পারে।”
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে আসামিপক্ষের স্বজনদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হত্যা মামলার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রবিন হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার এবং দুই ছেলে রনি ও হৃদয় হাওলাদার গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে নিহতের ছেলে হৃদয় হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে নতুন করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
