মা দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজন: মায়েদের পা ধুয়ে ভালোবাসা জানাল শিক্ষার্থীরা
বিশ্ব মা দিবসে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনের মাধ্যমে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শতাধিক শিক্ষার্থী। নালিতাবাড়ী পৌর শহরের সেঁজুতি অঙ্গনে রোববার (১০ মে) সকালে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ঘিরে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
‘মা আশ্রয়ের একটাই ঠিকানা’ শিরোনামে একুশে পাঠচক্র-এর ১৩২তম আসরে মায়েদের ত্যাগ, শ্রম ও সন্তান লালন-পালনে তাদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক শান্তি সাহা। উদ্বোধন করেন পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধাত্রীসেবায় নিয়োজিত নূর জাহান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একুশে দ্যুতি ও চন্দ্রিকা দ্যুতি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ধারাবাহিক দেয়ালিকা ‘অক্ষরপত্র’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষানুরাগী আঞ্জুমান আরা বেগম।
পরে সারিবদ্ধভাবে বসা মায়েদের পা ধুয়ে দেয় শিশুরা। একইসঙ্গে শিক্ষক ও অতিথিরা মায়েদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। সন্তানদের এমন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মধ্যে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষার্থী সাব্বির বলে, “আমি মাকে অনেক ভালোবাসি। মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেন। আজ মায়ের পা ধুয়ে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
অভিভাবক তাসমেরী বলেন, সন্তানের কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত। শিশুদের ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষা দেওয়া হবে, ভবিষ্যতে তারা সেটিই ধারণ করবে।
মাসিক ভাঁজপত্র কণ্ঠস্বর-এর প্রধান সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত শ্যামল বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক বাবা-মা অবহেলার শিকার হন। এ ধরনের আয়োজন সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা শেখাতে সহায়ক হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক স্বপ্না চক্রবর্তী, বিপ্লব দে কেটু, মনিরুল ইসলাম মনির, সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করে মা দিবসের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
