
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা । বেলা সাড়ে ১১টা বাজলেও কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. সাজেদুল হাসানকে। উল্টো কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সোমবার (২২জুন) সকাল ১০টায় দৈনিক নববাণীর জেলা প্রতিনিধি শেখ জুনায়েদ ও সদর প্রতিনিধি ত্রিদীপ দেবনাথ দিপ্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসের হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্ট অফিসার) আশিক প্রশ্ন করেন, “আপনারা কোন টিভির সাংবাদিক?” এর জবাবে সাংবাদিক শেখ জুনায়েদ বলেন, “পত্রিকার সাংবাদিকরা কি সাংবাদিক নন?” এই কথার পর হিসাবরক্ষক আশিক সাংবাদিকদের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন।
একপর্যায়ে উপ-পরিচালকের (ডিডি) অবস্থান জানতে চাইলে হিসাবরক্ষক আশিক জানান, স্যার অভিযানে আছেন। তবে পরবর্তীতে ডিডি সাজেদুল হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসে মিটিংয়ে আছেন এবং অফিসে ফিরতে ৩০ মিনিট সময় লাগবে।
ডিডির এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসকের সিএ জাকারিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো মিটিং নেই ।
এদিকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করলে উপস্থিত সাব-ইন্সপেক্টর এবং এএসআই রবিউল সাংবাদিকদের আবারও হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি? আপনাকে তো কখনো দেখিনি।” এএসআই রবিউল জানতে চান, “আপনি কি প্রেসক্লাবের সদস্য?” কর্মকর্তাদের এমন আচরণ ও কথাবার্তায় স্পষ্ট হয় যে, তাদের দৃষ্টিতে সাংবাদিক হতে হলে নির্দিষ্ট ক্লাবের সদস্য বা টিভির প্রতিনিধি হতে হবে।
পরবর্তীতে প্রায় ৪০ মিনিট পর ডিডি সাজেদুল হাসানকে আবার ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান যে তিনি এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) রুমে আছেন। তবে সেখানে গিয়েও আধা ঘণ্টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং ফোনও ধরেননি। অবশেষে প্রায় ৫০ মিনিট পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নিজের অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও সার্বিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ডিডি সাজেদুল হাসান বলেন, “আমাদের অফিসের স্টাফদের এমন আচরণ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।”
