বিনোদন ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে সংগীতাঙ্গনের তারকাদের নিয়ে নির্মিত কনসার্ট ফিল্ম এবং ক্যারিয়ারভিত্তিক ডকুমেন্টারির প্রতি দর্শকদের প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ওয়েসিস (Oasis) ব্যান্ডের সাম্প্রতিক পুনর্মিলনী থেকে শুরু করে কে-পপ তারকাদের ঝলমলে শো—সবকিছুই এখন বড় পর্দায় দেখার জন্য প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমচ্ছেন ভক্তরা। সংগীতপ্রেমীদের এই ঢল সিনেমা হলের ব্যবসার ধরন ও তারকাদের তৈরি করা ভাবমূর্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েসিসের ২০২৫ সালের রিইউনিয়ন ট্যুরভিত্তিক ডকুমেন্টারি ‘ডোন্ট লুক ব্যাক ইন অ্যাঙ্গার’-এ ব্যান্ডের দুই ভাই লিয়াম ও নোয়েল গ্যালাঘারের বিরল সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ সালে প্যারিসে একটি ঝগড়ার পর তাদের ব্যান্ড ভেঙে গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনর্মিলনী কনসার্টটি তাদের যেমন আর্থিক সফলতা দিয়েছে, তেমনি তাদের সম্পর্কের একটি সফল সমাপ্তি টানতেও সাহায্য করেছে। লিয়াম গ্যালাঘারের মতে, এই আয়োজনের পর যেন এক বিশাল বোঝা নেমে গেছে।
বড় পর্দায় মিউজিক ডকুমেন্টারি নির্মাণের মাধ্যমে সংগীতশিল্পীরা নিজেদের সম্মান ও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘বিফোরিং লেড জেপেলিন’-এর সাফল্যের পর এ ধরনের চলচ্চিত্রের বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি বছর অন্তত ৩০টিরও বেশি মিউজিক ফিল্ম সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে। যার মধ্যে কে-পপ সুপারস্টার এনহাইপেন (Enhypen), স্ট্রেই কিডস (Stray Kids), অ্যাটিজ (Ateez) থেকে শুরু করে প্রবীণ ব্যান্ড মেগাডেথ বা এলভিস প্রেসলির আর্কাইভ কনসার্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনসার্ট ফিল্ম ও মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকের মতো চলচ্চিত্রগুলো একই উদ্দেশ্য পূরণ করছে। ১৯৬৭ সালে বব ডিলানকে নিয়ে ডি এ পেনেবেকারের নির্মিত ‘ডোন্ট লুক ব্যাক’ চলচ্চিত্রের পর থেকেই ভালো মিউজিক ডকুমেন্টারির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে বর্তমান যুগে আর্কাইভ ফুটেজ এবং কনসার্ট রেকর্ড করা সহজ হওয়ায় এর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।
করোনা মহামারীর পর প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শক উপস্থিতি কিছুটা কমে যাওয়ায় হলের মালিকরাও তরুণ ও অনুরাগী দর্শকদের আকৃষ্ট করতে এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনে উৎসাহিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহের কারণে শিল্পীরাও তাদের আর্কাইভ উপাদান ও গানের স্বত্ব ব্যবহার করে চলচ্চিত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোতে এক ধরনের প্রজন্মগত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তরুণ শিল্পীরা মূলত তাদের প্রাণবন্ত লাইভ পারফর্ম্যান্স কনসার্ট ফিল্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন, যাতে ভক্তরা পরবর্তী ট্যুরের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। অন্যদিকে প্রবীণ শিল্পীরা নিজেদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ঘটনাবহুল ইতিহাস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি তৈরি করছেন, যা সংগীতে তাদের স্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
ওয়েসিসের ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে কিভাবে তাদের সংগীত সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে কোরিয়ার ভক্তদের পাশাপাশি ম্যানচেস্টারের হীটন পার্কের কনসার্টে টিকিট ছাড়া সাধারণ মানুষের গান গাওয়ার দৃশ্য চলচ্চিত্রে স্থান পেয়েছে। এমনকি ২০১৭ সালের ম্যানচেস্টার অ্যারেনা বোমা হামলার পর স্মারক সভায় ‘ডোন্ট লুক ব্যাক ইন অ্যাঙ্গার’ গানটি যেভাবে গেয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষ, সেই দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছে। সংগীতের এই কালজয়ী আবেদনই আজ মিউজিক ডকুমেন্টারির মাধ্যমে বড় পর্দায় অমরত্ব পাচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।