শৈশবের স্মৃতির টানে মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজে এক লাখ টাকা অনুদান দিলেন সৌদি প্রবাসী ইশতিয়াক আহমেদ দুলাল
নিজ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান, বিত্তবানদের এগিয়ে আসার প্রত্যাশা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১নং মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামের সন্তান মো. ইশতিয়াক আহমেদ দুলাল। শৈশবের স্মৃতি, শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা নিজ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা থেকে আবারও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
মৈন্দ বড় বাড়িতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইশতিয়াক আহমেদ দুলালের শৈশব-কৈশোরের দীর্ঘ সময় কেটেছে মৈন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মের পর থেকে প্রায় ১৮ বছর পর্যন্ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামের মাঠ-ঘাট, বন্ধু-বান্ধব ও আপনজনদের সঙ্গে গড়ে ওঠা অসংখ্য স্মৃতি আজও তাঁর হৃদয়ে অমলিন।
সেই শৈশবের স্মৃতি ও নিজের গ্রামের প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি এর আগে প্রায় চার বছর আগে নিজের হালাল উপার্জন থেকে মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এবার তিনি নতুন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
ইশতিয়াক আহমেদ দুলাল মনে করেন, একটি এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আলোকিত জীবন গড়তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজকে আরও আধুনিক, সুন্দর ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গ্রামের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, মৈন্দ গ্রামের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবে। গ্রামের বিত্তবানরা যদি সম্মিলিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান, তাহলে মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজ একদিন বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকব। ইনশাআল্লাহ আমাদের গ্রামের, আমাদের ইউনিয়নের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন, সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসবেন। আমরা সবাই মিলে মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজের সফলতা নিশ্চিত করব।”
শুধু আর্থিক অনুদান নয়, নিজ গ্রামের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা স্থানীয়দের মধ্যেও আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। প্রবাসে থেকেও নিজের শেকড়, জন্মভূমি ও শৈশবের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এলাকাবাসী।
মৈন্দ গ্রামের কৃতি সন্তান ইশতিয়াক আহমেদ দুলাল বর্তমানে সৌদি আরবের মদিনায় প্রবাসী হিসেবে কর্মরত। দূর প্রবাসে থেকেও নিজের গ্রামের প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করার প্রত্যয় তাঁর কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, “ভালোবাসি আমার মৈন্দ গ্রামকে, ভালোবাসি মজলিশপুর ইউনিয়নকে, ভালোবাসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণকে এবং ভালোবাসি আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—ইশতিয়াক আহমেদ দুলালের মতো প্রবাসী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান সবাই এগিয়ে এলে মৈন্দ স্কুল এন্ড কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মৈন্দসহ পুরো এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে।
ইতি—
মৈন্দ গ্রামের কৃতি সন্তান
মো. ইশতিয়াক আহমেদ দুলাল
সৌদি আরব, মদিনা প্রবাসী

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।