অর্থনীতি ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ডলি পার্টনের নামে রাখার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে বিমানবন্দরটির বোর্ড অব কমিশনার্স। সম্প্রতি আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা এই তারকার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার পরিচালনা পর্ষদের ভোটাভুটিতে এ প্রস্তাবটি পাস হয়।
ডলি পার্টন শুধু সঙ্গীত জগতেই সফল ছিলেন না, বরং টেনেসির অর্থনীতিতেও তার বড় অবদান রয়েছে। ধারণা করা হয়, তার ডলিউড থিম পার্কের মাধ্যমে প্রতি বছর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তার নামে বিমানবন্দরটি নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জীবদ্দশায় এই নামকরণের বিষয়টি নিয়ে ডলি পার্টন নিজে অবশ্য খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না। গত বছর এই আলোচনার বিষয়ে দ্য টেনেসিয়ান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, এটি হয়তো একটি মজার বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি মজা করে আরও বলেছিলেন, ‘ন্যাশভিলস ডি পার্টন’ থেকে আপনার ফ্লাইট ছাড়ছে—এমন কথা শুনতে বেশ আনন্দদায়ক হতে পারে।
গত মাসে ডলি পার্টনের প্রয়াণের পর এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি নতুন করে গতি পায়। টেনেসির গভর্নর বিল লি এবং ন্যাশভিলের মেয়র ফ্রেডি ও’কনেল প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তারা দুজনেই ডলি পার্টনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিমানবন্দরটি তার নামে করার আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে গভর্নর বিল লি বলেন, ডলি পার্টনের অসাধারণ জীবন আমাদের অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসের সঙ্গে চিরদিনের জন্য গেঁথে গেছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের এই প্রিয় কন্যার নামে ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামকরণ অত্যন্ত উপযুক্ত একটি পদক্ষেপ। এটি যাত্রীদের ডলির সঙ্গীত, উদারতা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার স্মৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর গভর্নর লি আরও জানান, এটি ডলির অনন্য অবদানকে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ ডলি সব সময় পুরো বিশ্বকে টেনেসির প্রেমে পড়তে সাহায্য করেছেন। তার প্রভাব ও অবদান রাজ্যটির সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক স্তরে পৌঁছে গেছে।
তবে চার হাজার ৫০০ একর বা প্রায় এক হাজার ৭০০ হেক্টর আয়তনের এই বিশাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে। পুরো বিমানবন্দর প্রাঙ্গণের নতুন সাইনবোর্ড তৈরি থেকে শুরু করে স্মৃতিস্তম্ভ, মার্চেন্ডাইজ, শাটল বাস, কর্মীদের পোশাক, ভিজিটিং কার্ড এবং আইনি চুক্তি ও লিজের কাগজপত্র হালনাগাদ করতে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হবে।
সংবাদপত্রের কলামিস্ট আলেহান্দ্রো রামোস গত মাসে লিখেছেন, ডলি পার্টনের নাম পরিবর্তনের কারণটি কেবল সঙ্গীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা অভিযানসহ টেনেসিতে তার সামগ্রিক অবদান অসামান্য। তিনি যে খ্যাতি, সম্পদ ও প্রভাব অর্জন করেছিলেন, তা বারবার জনকল্যাণে ব্যবহার করেছেন।
মেট্রোপলিটন ন্যাশভিল এয়ারপোর্ট অথরিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির নতুন চূড়ান্ত নাম কী হবে তা এখনও পুরোপুরি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ডলি পার্টনের নাম ও অবদানকে কীভাবে সঠিকভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই নাম পরিবর্তনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।