লোহিত সাগরে হুথিদের আধিপত্য বিস্তার: কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে ইরান

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের শক্তিশালী অবস্থান ও কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখলের ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও নৌপথের নিরাপত্তায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
লোহিত সাগরে হুথিদের আধিপত্য বিস্তার: কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে ইরান
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ন

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তাদের সামরিক আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে। সম্প্রতি কৌশলগত মোখা বন্দর দখলের পর এই প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপও হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়েছে।

একই সময়ে লোহিত সাগরের এই উত্তেজনার আবহেই সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এই জোড়া ধাক্কায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং পুরো অঞ্চলটির সমুদ্রপথের সার্বিক নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে গণ্য করা হয় বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে। এই সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক পানিযোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই সম্পন্ন হয়।

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে সার্বিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। পারস্য উপসাগরের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্যিক পণ্য ও তেল লোহিত সাগরের বিকল্প পথ দিয়ে সহজে পরিবহনের বড় সুযোগ রয়েছে। তবে মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপে হুথিদের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে সেখানে বড় ধরনের সামরিক ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির চলমান অবরোধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব তাদের দেশের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের বিখ্যাত আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সরাসরি অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের ঝুঁকি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে সৌদি তেল সরবরাহ করা হতো।

ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর সৌদি আরবের বড় অংশ নির্ভর করায় দেশটির রপ্তানি করা ক্রুড অয়েলের বিশাল একটি অংশ বর্তমানে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলার ঘটনার পর সাময়িকভাবে ওই পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সৌদি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে একই সাথে হরমুজের বাধা ও বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা ঝুঁকি এক অভূতপূর্ব দ্বিমুখী সংকটের জন্ম দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে ইরান সরাসরি বাব আল-মান্দেব প্রণালি পরিচালনা না করলেও তাদের অনুগত মিত্র হুথিদের দৃঢ় সামরিক অবস্থানের ফলে কৌশলগত সুবিধা লাভ করছে তেহরান। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির একটি বড় হাতিয়ার ইরানের হাতে এসে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব—দুটি প্রধান নৌপথেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইতিমধ্যেই এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে; আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই সাপ্তাহিক হিসেবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির রেকর্ড দেখা গেছে। জোড়া সামুদ্রিক পথের এই অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

অথেন্টিক সোর্স: জাগো নিউজ
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ