— বিজ্ঞাপন —

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ, মোবাইল উদ্ধারে হত্যার রহস্য উদঘাটন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ, মোবাইল উদ্ধারে হত্যার রহস্য উদঘাটন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ, মোবাইল উদ্ধারে হত্যার রহস্য উদঘাটন
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কাশবনের ভেতর হাত-পা ও মুখ স্কচটেপে বাঁধা অবস্থায় আরজান মিয়া ওরফে আবদুল্লা (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের লুণ্ঠিত ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং চোরাই মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করেছে পিবিআই।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের সরকারি কলেজের সামনে জসিম উদ্দিনের মার্কেটের দক্ষিণ পাশে কাশবনের ভেতর থেকে আরজান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত, দুই পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। হাঁটুর ওপরও রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন আরজান। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হলেও অটোরিকশা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আ. আউয়াল বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

— বিজ্ঞাপন —

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ২ অক্টোবর পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পিবিআইয়ের বিশেষ টিম।

তদন্তের একপর্যায়ে ১ অক্টোবর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সামসু মিয়া (২৩) নামে একজনের কাছ থেকে নিহত আরজানের লুণ্ঠিত ভিভো মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ সদরের পৌর মার্কেটের ‘সোহেল টেলিকম’-এ অভিযান চালিয়ে চোরাই মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সিহাব হোসেন (৩২) ও মো. রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, হত্যার পর লুট করা মোবাইল ফোনটি সোহেল টেলিকমে নিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা। গ্রেপ্তার সিহাব ও জুয়েল মোবাইলটি লুণ্ঠিত জেনেও ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনে নেন। পরে সেটি ৩ হাজার ৮০০ টাকায় সামসু মিয়ার কাছে বিক্রি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও তদন্তে পিবিআই আরও জানতে পারে, ২০ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের লাখাইয়ের বামৈ-বল্লা বাজার এলাকা থেকে মো. তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) এবং রিমন ওরফে মো. মাহফুজুর রহমান (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে নিয়ে নাসিরনগরের দিকে আসেন। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিরনগরে আরজানকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করে মরদেহ কাশবনের ভেতর ফেলে রেখে যায় তারা। গ্রেপ্তার জুয়েল মূল ঘাতক তুহিন ও রিমনের পূর্বপরিচিত বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার জানান, ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, পলাতক আসামিদের গতিবিধি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ওই মোবাইল ফোন উদ্ধারের পরই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তার সিহাব হোসেন ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে শনাক্ত তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন এবং রিমন ওরফে মাহফুজুর রহমান এখনো পলাতক রয়েছেন।

তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পিবিআই। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত অটোরিকশা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗