বাংলাদেশ ডেস্ক: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। পরিবেশের ওপর এই দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে সরকার ৫০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার একটি বিস্তৃত প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তবে এই উদ্যোগের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পরামর্শকদের ফি প্রদান করতেই ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় বায়ুদূষণ হ্রাসে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মোট বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিভিন্ন খাতের গবেষণামূলক কাজ, সমীক্ষা এবং বৈদেশিক কারিগরি সহায়তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় বহিরাগত এবং দেশীয় পরামর্শক সেবা বাবদ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ ও যানবাহন পরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার চেয়ে আন্তর্জাতিক ফি প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শে এ ধরনের মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত ধোঁয়া ছাড়া যানবাহনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় রাস্তায় অবাধে চলছে এসব বাহন, যা বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।
পরিবেশ রক্ষা এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত এমন বড় আকারের প্রকল্পে যেন পরামর্শক ব্যয়ের চেয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ওপর বেশি নজর দেওয়া হয়, সে বিষয়ে জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন পর্যায়ক্রমে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।