গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইবোলা বিষয়ক সতর্কতায় সাড়া দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে এক নার্স নিহত এবং অপর এক স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় যুবকরা তাদের বিরুদ্ধে পানির উৎস দূষিত করা এবং ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই হামলা চালায় বলে জাতিসংঘ সমর্থিত রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে কঙ্গোতে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪,৮০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১০,০০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসাস কঙ্গোর ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের সর্বদা রক্ষা করা উচিত। সংস্থাটি নিহত নার্সের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহত স্বাস্থ্যকর্মীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা কঙ্গো থেকে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উগান্ডা জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে ফিরে আসা নিজ দেশের নাগরিকদের নিজ খরচে ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে কেবল ত্রাণকর্মী, ট্রাকচালক ও নিরাপত্তা কর্মীদের মতো জরুরি ভ্রমণকারীদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কেনিয়া এবং নাইজেরিয়ায় কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবের সাথে সম্পর্কিত ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর উগান্ডা এই নতুন কড়াকড়ি আরোপ করল। গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়া নারী একজন সুইস কূটনীতিকের উগান্ডান বংশোদ্ভূত স্ত্রী। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় পৌঁছানোর পর সুইজারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় যাওয়া এক ব্যবসায়ী নাইরোবিতে পৌঁছানোর দুই দিন পর মারা যান। কেনিয়ায় এ পর্যন্ত ৯ জন ইবোলা আক্রান্ত রোগী নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে সম্প্রতি এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস বারিয়োমুনসি জানিয়েছেন, উগান্ডায় যেন ইবোলা না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতেই এসব সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও উগান্ডায় আগস্টের পর নতুন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি, তবুও আক্রান্ত ব্যক্তিরা উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দর ব্যবহার করায় দেশটির স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে গেছে। কঙ্গোর সাথে উগান্ডার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে বাণিজ্য, ভ্রমণ ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে থাকা ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির ভাইরাসটি তুলনামূলকভাবে বিরল। এই প্রজাতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা নিরাময়কারী ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তবে এটি উদ্ভাবনে বর্তমানে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ভাইরাসটি সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত বা বমির মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।