খেলাধুলা ডেস্ক: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ হকি দল। ভারতের জলন্ধরের সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে জিমি-আমিরুলদের দল। আগামী ২৯ অক্টোবর একই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও ভারতের কাছে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এর বাইরেও আন্তর্জাতিক হকিতে বড় ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংককে পাকিস্তানের কাছে ১৭-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক হকিতে তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়।
আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) র্যাঙ্কিংয়ে ভারত বর্তমানে অষ্টম স্থানে এবং বাংলাদেশ রয়েছে ২৭ নম্বরে। শক্তির এই পার্থক্য ম্যাচের শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম কোয়ার্টারেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় ভারত। কোচ পিটার গেরহার্ডের শিষ্যরা প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতেই হিমশিম খায় এবং প্রথম কোয়ার্টারেই চার গোল হজম করে।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও খেলার ধারায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভারতের টানা আক্রমণের মুখে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। এই কোয়ার্টারে আরও দুটি গোল আদায় করে প্রথমার্ধেই ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষ দুই কোয়ার্টারেও আধিপত্য ধরে রাখে ভারত। বাংলাদেশের ভঙ্গুর রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে দলটি শেষ পর্যন্ত ১৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে। ভারতের পক্ষে ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনটি গোল করেন মনদীপ সিং।
উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসে সপ্তম হওয়ায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সরাসরি খেলার কথা ছিল না বাংলাদেশের। তবে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে মাত্র একবার এই প্রতিযোগিতায় খেলেছিল দলটি, তবে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের চার ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি তারা। এবারও হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর এখন জাপানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ লাল-সবুজদের সামনে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।