নাসিরনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

লেখক: ইয়াছিন চৌধুরী,
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে
নাসিরনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা এক ব্যক্তির নাম থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে। আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল মান্নান জীবন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঢাকার তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে তার নাম রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের আওতায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী পদে মোট ৫৩৭ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ১০৬ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং ১১ জনকে রিজার্ভ তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সুপারভাইজার পদে ১০৩ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১১ জন নির্বাচিত এবং একজনকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুধু গোকর্ণ ইউনিয়ন নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নির্বাচিত তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম থাকার খবর পাওয়া গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতেও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার আগে নির্বাচিতদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে কি না। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়ার আগে নির্বাচিতদের তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হলে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।