ইসলাম ডেস্ক: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ন
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল। আজ বুধবার বিকেলে নাটোরের আলাইপুর এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি নাটোর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কানাইখালী প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, শাকিল ইসলাম দলের জন্য একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন এবং বিগত ১৭ বছরে তিনি বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাঁদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ছাত্রদল রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন সৃজন জানান, ছাত্রদলের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা এই হত্যার সুবিচারের দাবি জানাবেন যদি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হয়। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিনহাজ মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিম শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান শরিফ চমক এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনাম আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজের পাশে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
রাজশাহী থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শাকিলকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।