খেলাধুলা ডেস্ক: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। এই তিনটি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে সংস্থাটির আনুমানিক ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি লোকসান হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি।
উদ্ভুত পরিস্থিতি ও বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে তার এই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদ ও সাধারণ সভার একাধিক সদস্য।
গত মাসে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। মাঠের লড়াইয়ে স্বাগতিক দলটি প্রশংসিত হলেও কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও মাঠের বাইরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনকে চরম চাপে ফেলে দিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এখনো তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া মেটানো না হলে দুই দেশের ফুটবল সংস্থা ক্রীড়া বিষয়ক সর্বোচ্চ আদালতে এআইএফএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে এক বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতি কল্যাণ চৌবে স্থায়ী আমানত ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে তৈরি ঘাটতি মেটাতে আপাতত স্থায়ী আমানত থেকে টাকা নেওয়া হোক। পরবর্তীতে বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করে সেই অর্থ আমানতে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তবে কল্যাণ চৌবের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য। ফেডারেশনের সহসভাপতি এন এ হ্যারিসও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি জানান, কার্যনির্বাহী কমিটি আগেই স্থায়ী আমানত না ভাঙার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল। সভার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আইএফএ প্রতিনিধি সুব্রত দত্ত।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় ঠিক কত টাকার চূড়ান্ত ক্ষতি হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি কোনো কর্মকর্তা। তবে এই বিপুল পরিমাণ দেনা ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশেষ সাধারণ সভায় সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতেই যদি অধিকাংশ অর্থ ব্যয় ও বিশাল ক্ষতি হয়ে যায়, তবে সন্তোষ ট্রফি, ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচি ও অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টের খরচ চালানো সম্ভব হবে কীভাবে। তবে এসব প্রশ্নের জবাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি সভাপতি কল্যাণ চৌবে।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।