— বিজ্ঞাপন —

তাঞ্জানিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা টুন্ডু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে খালাস, উস্কানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

তাঞ্জানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা টুন্ডু লিসুকে রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলেও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত।
তাঞ্জানিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা টুন্ডু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে খালাস, উস্কানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ন

পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা টুন্ডু লিসুকে উস্কানি দেওয়ার এক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। তবে দার এস সালামের হাইকোর্টের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ তাকে আরও গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। বিচারকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ রাষ্ট্রদ্রোহের মূল উপাদান প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

৫৮ বছর বয়সী এই বিরোধী নেতা গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে আটক রয়েছেন। ২০২৫ সালের বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে প্রচারণার সময় দেওয়া কিছু বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। বিরোধী দল চাদেমার (Chadema) প্রধান লিসু শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং এই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করলেও উস্কানির অপরাধে তার কী শাস্তি হবে এবং এর আইনি ব্যাখ্যা কী, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তাঞ্জানিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের একটি, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব আপিল’-এ আপিল করার সুযোগ রয়েছে লিসুর।

লিসুকে নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস আগে আটক করা হয়েছিল। ‘সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়’ স্লোগান তুলে নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে প্রচারণা শুরুর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি জনগণকে উস্কানি দিয়ে নির্বাচন ব্যাহত করা এবং সরকারকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তবে পেশায় আইনজীবী লিসু আদালতে নিজের পক্ষে নিজেই লড়াই করেন এবং জানান, তার বক্তব্যগুলো ছিল সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কারের একটি বৈধ রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ।

লিসু কারাবন্দি থাকাকালীন তার আইনজীবী ও স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়ায় দু’বার স্বল্পমেয়াদী অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন। আইনজীবীদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরামর্শের কথা কারারক্ষীরা আড়ি পেতে শুনত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে জেল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে তাঞ্জানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লিসুসহ অন্যদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ায় বিরোধী দলগুলো এই ফলকে গণতন্ত্রের প্রহসন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। তবে সরকার বিরোধী নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। গত বছরের নির্বাচনের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে অন্তত ৫০০ জন নিহত হন বলে এক সরকারি তদন্তে উঠে আসে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তাঞ্জানিয়ায় রাজনৈতিক দমনপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: BBC World (English)
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗