মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

লেখক:
প্রকাশ: ৫ মাস আগে
মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক নারীকে তার বাবার বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৩০ জুন) ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফজর আলী মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং সহিদ মিয়ার ছেলে।

ধর্ষণের পাশাপাশি ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার সকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক ক্ষুদেবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—

  • সুমন (পিতা: আবদুল হান্নান)

  • রমজান (পিতা: জাফর আলী)

  • মো. আরিফ (পিতা: মো. আলম)

  • মো. অনিক (পিতা: তালেম হোসেন)

তারা সকলেই অভিযুক্ত এলাকায় বসবাসকারী।

ঘটনা কীভাবে ঘটেছে?

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে তার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে ফজর আলী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে
পরদিন তিনি মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

তবে স্থানীয়দের মতে, ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।
এই ভিডিও পরে শনিবার রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ভিডিও ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ১০-১২ জন যুবক বিবস্ত্র অবস্থায় নারীকে ঘিরে রেখেছে এবং মারধর করছে, আর ওই নারী বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন,

“মহিলা ধর্ষণের বিষয়ে মামলা করেছেন, তবে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানাননি। তবে ভিডিও ভাইরালের পর যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের শনাক্ত করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন আরও বলেন,

“ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। ভিডিও ছড়ানোয় জড়িত চারজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হবে।”

ভুক্তভোগীর পারিবারিক প্রেক্ষাপট

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী গত পাঁচ বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে
স্থানীয়ভাবে এমন ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এই ঘটনায় নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কড়া নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫