অপারেশন কক্ষে পিঠা রান্না! ফেনী জেনারেল হাসপাতালে দুই নার্স সাময়িক বরখাস্ত
ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) রান্না করার ঘটনায় নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পৃথক দুটি আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার। কল্পনা রানী মণ্ডলের বাড়ি বরিশাল এবং রানী বালা হালদারের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়।
বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষের ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করা চরম দায়িত্বহীন ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অস্ত্রোপচার কক্ষের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা যেমন ক্ষুণ্ন হয়েছে, তেমনি নার্সিং পেশার ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি তারা হাতে পেয়েছেন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবেও ঘটনার তদন্ত করছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে শীতের পিঠা (স্থানীয়ভাবে খোলাজা পিঠা) তৈরি করছেন দুই নার্স। ভিডিওতে দেখা যায়, অপারেশন কক্ষের ভেতরে থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করে রান্না চলছে, পাশ দিয়েই অন্য নার্স ও রোগীর স্বজনরা অবাধে চলাচল করছেন। ঠিক পাশের কক্ষেই তখন প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চলছিল বলে জানা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় লেবার ওয়ার্ড অবস্থিত। সেখানে মেডিকেল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা ও পানি গরমের জন্য গ্যাসের চুলা থাকলেও সেটি ব্যবহার করে খাবার রান্না করা সম্পূর্ণভাবে বিধিবহির্ভূত।
ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে সহকারী পরিচালক মো. জালাল হোসেনকে আহ্বায়ক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়কে সদস্যসচিব এবং সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আদনান আহমেদকে সদস্য করা হয়েছে।
