খেলাধুলা ডেস্ক:অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)-এর নিয়মিত মরসুমের অভিষেক হতে যাচ্ছে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) লস অ্যাঞ্জেলেস রামস ও সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিলাইনার্স-এর ম্যাচটি কেবল বাণিজ্যিক লাভের জন্য নয়, বরং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে ‘ফ্ল্যাগ ফুটবল’ অন্তর্ভুক্ত করার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। আমেরিকান ফুটবলের অ-যোগাযোগমূলক বা ‘নন-কনট্যাক্ট’ সংস্করণ হলো এই ফ্ল্যাগ ফুটবল।
চলতি বছরেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ২০৩২ সালের গেমসের মূল ডিসিপ্লিনগুলো চূড়ান্ত করছে। এরপর স্থানীয় আয়োজকরা অতিরিক্ত খেলার প্রস্তাব দেবেন। এই প্রক্রিয়াটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হতে পারে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো স্থান পেতে যাচ্ছে ফ্ল্যাগ ফুটবল। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রিসবেন অলিম্পিকেও খেলাটি বজায় রাখতে প্রচার চালাচ্ছে এনএফএল।
মঙ্গলবার স্পোর্টএনএক্সটি সম্মেলনে এনএফএল-এর আন্তর্জাতিক ইভেন্টের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পিটার ও’রাইলি জানান, ফ্ল্যাগ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল খেলা। এটি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পর ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও থাকবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি নিশ্চিত করেন, ২০৩২ অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির এই সুযোগই মেলবোর্নকে এই ম্যাচটি পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে দিয়েছে।
এনএফএল-এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা টিম এলিস জানান, ব্রিসবেন অলিম্পিকে ফ্ল্যাগ ফুটবল অন্তর্ভুক্ত করতে তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিলাইনার্স-এর কোচ কাইল শ্যানাহানও বুধবার খেলাটি অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, মূল আমেরিকান ফুটবল যুক্ত করা কঠিন হলেও ফ্ল্যাগ ফুটবল একটি ভালো মাধ্যম। এটি হাই স্কুল ও কলেজে বেশ জনপ্রিয়।
খেলাটির প্রসারে গত এপ্রিলে এনএফএল কমিশনার রজার গুডেল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি স্কুলে ফ্ল্যাগ ফুটবল কিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত মাসের শেষের দিকে কুইন্সল্যান্ডে প্রথম কিট এসে পৌঁছায়। রাজ্যের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস মন্ত্রী টিম মান্ডার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অলিম্পিক অভিষেকের আগেই শিশুরা ফ্ল্যাগ ফুটবলের সাথে পরিচিত হতে পারছে।
শুক্রবার এমসিজিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিতে প্রায় এক লাখ দর্শক উপস্থিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিক্টোরিয়ান সরকার এই ম্যাচটি আয়োজনের ফি হিসেবে এক কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদান করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মেলবোর্নে তিন দিনব্যাপী ভক্তদের জন্য আয়োজিত ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গত মাসে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ও নারী উভয় দলই ১২তম স্থান অর্জন করেছিল। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে কেবল ছয়টি পুরুষ ও ছয়টি নারী দল খেলার সুযোগ পাবে।
সূত্র: The Guardian – Sport

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।