— বিজ্ঞাপন —

আইজিপির ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহির দাবি টিআইবির

আইজিপির ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহির দাবি টিআইবির
আইজিপির ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহির দাবি টিআইবির
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে—পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার বদলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিপজ্জনক বার্তা দেয়।

এক বিবৃতিতে টিআইবি আইজিপির বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইজিপির প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে স্বপদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কিনা, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বস্তুত আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি।

— বিজ্ঞাপন —

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান নয়, বরং এটি পেশাগত দেউলিয়াত্বের রূপ। একই বক্তব্যে আইন ও সংবিধান মেনে চলার কথা এবং সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করার কথা বলা স্পষ্টত পরস্পরবিরোধী। কোনো সরকারের অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না, কারণ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে মানুষের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে।

অতীতের বিভিন্ন অপরাধমূলক বিচারিক নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ও হত্যার অভিযোগ এ পদ্ধতির ভয়াবহতা প্রমাণ করে। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর প্রকাশিত অডিও এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তাদের সাজা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ। অতীতের এসব ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, তার জবাব পুলিশপ্রধানকেই দিতে হবে।

টিআইবির মতে, পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন সবুজ সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। সংস্থাটি প্রশ্ন তোলে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না এবং বিদ্যমান আইনেই তা সম্ভব। এরপরও কেন পুলিশপ্রধান এমন সম্ভাবনা সামনে আনলেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার কঠোর ও অনিবার্য পরিস্থিতিতেই অনুমোদিত। এটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আইজিপির ঢালাও সমালোচনার বিষয়ে টিআইবি বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; কিন্তু ঢালাও মন্তব্য স্বাধীন গণমাধ্যমের নজরদারিকে ক্ষুণ্ণ করে।

সূত্র: সমকাল
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

— বিজ্ঞাপন —
পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗