আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পুলিশ বাহিনীকে চার সপ্তাহের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরীফ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জেলা পুলিশ অফিসার (ডিপিও) এবং আঞ্চলিক পুলিশ অফিসারদের (আরপিও) সাথে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠকে প্রতিটি বিভাগ ও জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। রাওয়ালপিন্ডি বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মরিয়ম নওয়াজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি গুরুতর অপরাধ দমনে পুলিশকে তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।
বৈঠকে পাঞ্জাবের আইজি মুখ্যমন্ত্রীকে প্রদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এর মধ্যে মুলতানের সাম্প্রতিক ঘটনা ও অন্যান্য প্রধান অপরাধগুলোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। সভায় ক্যামেরাযুক্ত চশমা এবং অন্যান্য নজরদারি সরঞ্জামের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাব জুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গতিসীমা লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের ভেতরের দুর্নীতি দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রাদেশিক সীমান্ত অঞ্চলসহ সব জেলা থেকে গমের চোরাচালান বন্ধে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সব আরপিওকে প্রতি সপ্তাহে অপরাধ পর্যালোচনা সভা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ডিপিওদের পারফরম্যান্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করতে প্রদেশজুড়ে দৃশ্যমান পুলিশ টহল জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া তাবলীগী ইজতেমার আয়োজকদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত অবস্থান কর্মসূচির সময় আরএমসি পুলিশ বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের জন্য আজীবন বেতন ও আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। লাহোরে ডলফিন ফোর্সের কার্যকর টহল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মোটরসাইকেল ও সুযোগ-সুবিধা সরবরাহের নির্দেশও দেন তিনি।
পাঞ্জাবে কোনো ধরনের গুন্ডামি বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়ার তাগিদ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া ভিড় সামলানো এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষায়িত আরএমসি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাঞ্জাবের সামগ্রিক অপরাধের হার এখনও নিম্নমুখী। বেশ কয়েকটি জেলা ও অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য হারে অপরাধ কমেছে। এর মধ্যে লাহোরে অপরাধের হার ৪১ শতাংশ এবং ডেরা গাজী খান অঞ্চলে ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।