আওয়ামীলীগ নেতা সোহাগ মেম্বারকে গ্রেপ্তারে বাধা, যুবদল নেতা মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত

লেখক: লিটন হোসাইন জিহাদ |
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মেম্বারকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১নং বুধন্তি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে বুধন্তি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মদের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। দোকানটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিজয়নগর থানার এসআই সুমন ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে সোহাগ মেম্বারকে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় হঠাৎ যুবদল নেতা মিজান এসে এসআই সুমনকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেন এবং সোহাগ মেম্বারকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

এ বিষয়ে এসআই সুমন গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ মেম্বারকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু যুবদল নেতা মিজান আমাকে শারীরিকভাবে বাধা দেয়, যার ফলে অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাটি সিসিটিভিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।”

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজান বুধন্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মামলা বাণিজ্য ও ভয়ভীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সভাপতি শামিম মোল্লা বলেন, “আমি নিজেই ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। জেলা যুবদল কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেবে না।”

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া ইয়ার মোহাম্মদ খালেদ রাসেল বলেন, “ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কীভাবে যুবদল নামধারী এক ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে অপরাধীকে রক্ষা করছে। এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদের সহযোগিতা ছাড়া কিছু নয়। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

এদিকে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার দাবি করছেন, যাতে কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।