আড়াইহাজারে নারী আসামিকে গ্রেপ্তার ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা: আহত ৬, অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার

লেখক: Sanjida
প্রকাশ: ২ মাস আগে
আড়াইহাজারে নারী আসামিকে গ্রেপ্তার ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা: আহত ৬, অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। হামলায় আড়াইহাজার থানার একজন এসআইসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করতে হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রসুলপুর গ্রামের জুলহাস মিয়ার স্ত্রী আসমা বেগম একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে রাত ১টার দিকে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ আসমাকে আটক করার পরপরই তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই অজিতসহ এএসআই পদমর্যাদার আরও পাঁচজন কর্মকর্তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, আটকের পর আসামি আসমা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশ সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। এই সুযোগে স্বজনরা আসমাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পলাতক আসমার পরিবারের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মাধবদীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি আসমা বেগমসহ পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।