রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে শুরু করেছে। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ঘোষণার এক সপ্তাহ পর এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে আপাতত এই সীমিত যুদ্ধবিরতি মেনে চলা হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ওলেশকি শহরটি খেরসন অঞ্চলে দানিপ্রো নদীর তীরে অবস্থিত, যা বর্তমানে সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে উভয় দেশের বাহিনীকে পৃথক করে রেখেছে। একদিকে নদী এবং অন্যদিকে রুশ বাহিনীর অবস্থান থাকায় শহরটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকার কারণে শহরটিতে তীব্র খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছে। জীবন বাঁচাতে অনেক বাসিন্দা বাগানের আগাছা সেদ্ধ করে খেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিসিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা চরম ক্ষুধার কথা তুলে ধরে শহরটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরুর প্রথম দিকেই রাশিয়া ওলেশকি দখল করে নেয়। যুদ্ধের আগে শহরটিতে প্রায় ২৪,০০০ মানুষ বসবাস করলেও বর্তমানে ইউক্রেনের হিসাব অনুযায়ী সেখানে শিশুসহ প্রায় ৬,০০০ বাসিন্দা আটকা পড়ে আছেন।
গত তিন বছর ধরে শহরটিতে কোনো বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির সরবরাহ নেই এবং সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ সহায়তা পাঠানোর একাধিক চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা ব্যর্থ হয়। এছাড়া মাইন বিছানো রাস্তার কারণে পায়ে হেঁটে শহর ছাড়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
পরিস্থিতির জবাবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয় যে মেলানিয়া ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ওলেশকিতে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর ০৪:০০ (মস্কো সময়) থেকে তারা দানিপ্রো নদীর অপর পাড়ে ইউক্রেনীয় শহর খেরসনের দিকে গোলাবর্ষণ বন্ধ রেখেছে।
ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক পার্লামেন্ট কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেটস সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে ইউক্রেনীয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বজায় রাখছে। তিনি মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধান হিসেবেও বিষয়টি তদারকি করছেন।
তবে বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। অনেকে ভয় পাচ্ছেন যে রাশিয়া তাদের ইউক্রেনে ফিরতে বাধা দিতে পারে অথবা তাদের ফোন ও অনলাইন কার্যক্রম পরীক্ষা করে হয়রানি করতে পারে। একই সঙ্গে শুক্রবারের নির্ধারিত স্থানান্তরের আগে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তারা সময়মতো বের হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় দেশের অসামরিক প্রতিনিধিরা ওলেশকির বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাত্রা নির্ধারণে কাজ করবেন। মেলানিয়া ট্রাম্প ইতিপূর্বেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মানবিক সংকট নিরসনে চিঠি পাঠানোসহ নানা পদক্ষেপে যুক্ত ছিলেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।