ইউরোপে পর্যটন কর: ইতালির শহরগুলোর আয় বাড়ানোর জনপ্রিয় কৌশল

যুক্তরাজ্যে পর্যটন কর চালুর বিষয়টি নতুন হলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি বহু দশক ধরে চালু রয়েছে। বিশেষ করে ইতালিতে স্থানীয় প্রশাসনের আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে এই ব্যবস্থা।
ইউরোপে পর্যটন কর: ইতালির শহরগুলোর আয় বাড়ানোর জনপ্রিয় কৌশল
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

অর্থনীতি ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড যখন নতুন করে পর্যটন কর আরোপের পরিকল্পনা করছে, তখন মহাদেশীয় ইউরোপের দেশগুলো কয়েক দশক ধরে এই ধরনের ফি আদায় করে আসছে। সাধারণত পর্যটকরা হোটেল বা ছুটির জন্য ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে চেক-আউট করার দিন এই ট্যাক্স পরিশোধ করে থাকেন। অনেক সময় থাকার মোট খরচের অতিরিক্ত হিসেবে এই ফি দেখে পর্যটকরা চমকে যান।

ইউরোপে পর্যটন কর চালুর ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ায় প্রথম এই কর চালু হয়, যা মূলত স্পা এবং ওয়েলনেস সেন্টারে অবস্থানকারী পর্যটকদের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড একই ধরনের পদক্ষেপে হাঁটে। এসব ধনকুবের পর্যটকদের কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত খরচ যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের বহন করতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই নিয়ম চালু করা হয়।

ইতালির পর্যটন কর ব্যবস্থায় সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত যেকোনো শহর বা নগরীকে এই করের আওতায় আনা হয়। তবে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাতীয়ভাবে করটি ফিরিয়ে আনা হয় এবং রোম প্রথম শহর হিসেবে পুনরায় এই ফি আরোপ করে।

পর্যটন কেন্দ্র এবং অনেক ক্ষেত্রে হোটেলের ধরনের ওপর নির্ভর করে রাতপ্রতি এই ফির পরিমাণ সাধারণত ১ ইউরো থেকে ১০ ইউরোর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে মিলানের পাঁচতারকা হোটেলের অতিথিদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ রাতপ্রতি ১২ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ভেনিস ২০২৪ সাল থেকে একটি প্রবেশ ফি চালু করেছে, যা মূলত দিনে এসে দিনে ফিরে যাওয়া পর্যটকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

ইতালির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর জন্য এই নৈশভিত্তিক কর আয়ের বড় একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনভিত্তিক অর্থ প্রবাহ ট্র্যাকার ‘সিওপ’ (Siope)-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে কেবল এই কর থেকেই রোম আয় করেছে ২২ কোটি ২৪ লাখ ইউরো। এছাড়া মিলান ১০ কোটি ৯৩ লাখ ইউরো, ফ্লোরেন্স ৮ কোটি ২৯ লাখ ইউরো এবং ভেনিস ৩ কোটি ৮৯ লাখ ইউরো রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত পর্যটনের চাপে থাকা শহরগুলোর স্থানীয় সেবা খাত এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সংস্কার বা সুরক্ষায় এই অর্থ ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে আর্থিক সংকটে থাকা পৌরসভাগুলো অন্যান্য দৈনন্দিন খরচেও এই অর্থ ব্যবহার করে থাকে।

হোটেল মালিকদের সমিতি ‘ফেডারালবার্গি’-র রোম শাখার ব্যবস্থাপক জিয়ানলুকা দে গেতানো জানান, অর্থ সংকটের কারণে সব পৌরসভাই এই ফি আদায়ে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, পর্যটকরা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত এই ফি পরিশোধ করে দেন। তবে হোটেল ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত কর দেওয়ার পর যদি শহরের সেবা মানসম্মত না হয়, তখন পর্যটকরা বেশি অভিযোগ করেন।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Business
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ