অর্থনীতি ডেস্ক: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ন
বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের নতুন একটি আর্থিক সংকটের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে আর্থিক সংকট তৈরির জন্য পরিচিত মনে করা হলেও, এ বছরের পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশ জটিল রূপ নিচ্ছে। তেলের আকাশচুম্বী দাম, বৈশ্বিক সরকারি বন্ড বিক্রি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রধানদের তরফ থেকে উন্নয়নের গতি ধীর করার হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে এক নতুন অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব প্রথমে যতটা গুরুতর আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা পরিলক্ষিত হয়নি। তবে সম্প্রতি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের ভয় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রিফাইনিং সক্ষমতার ঘাটতির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর জ্বালানি খরচের চাপ অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছিল, তা এআই প্রধানদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ধাক্কা খেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন প্রযুক্তি যুদ্ধের দিকে নজর রেখে এআই খাতে কড়া নিয়ম চাপাতে অনিচ্ছুক হলেও, বিশ্লেষকদের মতে ২০০৮ সালের আর্থিক ধসের পর বর্তমান বাজারকে সবচেয়ে ভঙ্গুর মনে হচ্ছে।
অবশ্য ২০০৮ সালের লিমান ব্রাদার্স ধসের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির কিছুটা তফাত রয়েছে। তখনকার সংকট ছিল মার্কিন আবাসন খাতে ব্যাংকগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ঋণের ফল। তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তির পেছনে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সক্ষমতা রাখে। তা সত্ত্বেও, প্রযুক্তি খাতের অতিমূল্যায়িত ‘বাবল’ বা বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বৃদ্ধি থেকে সরে আসতে পারে এবং সরকারগুলো আর্থিক নীতিতে নমনীয়তা আনতে বাধ্য হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক বন্ড পুনঃক্রয় উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগকেই স্পষ্ট করে তুলছে। সংকট মেটাতে আগাম প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক নীতিমালা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।