আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ন
ইসরায়েলে ক্ষমতার মসনদ দখলের রাজনৈতিক লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার এক কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৬৭ হাজার ইসরায়েলি ভোটার নিজ দেশে ফিরেছেন। তারা নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভোটারের এই আগমন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রবাসীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলা সরকারের নীতি এবং গাজা যুদ্ধ সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দেশটির জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা চান।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবার সপ্তম বারের মতো ক্ষমতায় আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এই নির্বাচনে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি একজন অত্যন্ত সফল যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং ভোট দেওয়ার সময় ইসরায়েলি জনগণের তা মনে রাখা উচিত।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর জোটের কাছ থেকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। বিরোধী জোটে দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের মতো প্রভাবশালী ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন, যা নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট বা নেসেটের মোট ১২০টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ইসরায়েলের আগামী দিনের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কী হবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।