এআই হতে পারে এক অর্থনৈতিক ‘বুদ্বুদ’, অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদনশীলতায় এখনো ভূমিকা নেই: রিজার্ভ ব্যাংক গর্ভনর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক ধরনের অর্থনৈতিক 'বাবল' বা বুদ্বুদ হতে পারে এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) গভর্নর মিশেল বুলক।
এআই হতে পারে এক অর্থনৈতিক 'বুদ্বুদ', অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদনশীলতায় এখনো ভূমিকা নেই: রিজার্ভ ব্যাংক গর্ভনর
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি এক ধরনের অর্থনৈতিক ‘বাবল’ বা বুদ্বুদ হতে পারে এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) গভর্নর মিশেল বুলক। সিডনিতে কমিটি ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অব অস্ট্রেলিয়ার (সিডা) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যালবানিজ সরকার যখন দাবি করছে যে এআই দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা দূর করবে, ঠিক সেই মুহূর্তে মিশেল বুলক সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের ধ্বস বা হঠাৎ দরপতন হলে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষতি করতে পারে। বিশ্বের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকই এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। কিছু মানুষ এটিকে বুদ্বুদ মনে করছেন, আবার কেউ তা মনে করছেন না। এটিকে তিনি একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

আরবিএ গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এআই প্রযুক্তিকে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক বিশাল আশার আলো মনে করলেও এখন পর্যন্ত এর ইতিবাচক প্রভাব খুব কমই দেখা গেছে। বরং দ্রুততম সময়ে এর ব্যবহার ও ডেটাসেন্টারগুলোতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বুলক জানান, যেসব কর্মী এআই ব্যবহার করছেন তারা কাজ করছেন আগের মতোই, কিন্তু তাদের কর্মঘণ্টা সপ্তাহে প্রায় ১.৫ ঘণ্টা কমে গেছে। অর্থাৎ মানুষ যখন নতুন কোনো প্রযুক্তি বোঝার চেষ্টা করে, তখন সাময়িকভাবে হলেও উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে। তবে ব্যবসার প্রক্রিয়াগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা আবার বাড়তে পারে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল যে এআই-এর সহায়তায় দেশটির বার্ষিক উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশে ফিরে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন বেশ কঠিন। দেশটির ট্রেজারার জিম চালমার্স এআইকে জীবনের সবচেয়ে পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক আবাসন খাত ও অভিবাসন নিয়েও কথা বলেন মিশেল বুলক। তিনি জানান, গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তিই ছিল অভিবাসন। নতুন অভিবাসীরা মূল্যস্ফীতি না বাড়ালেও আবাসন খাতে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে, কারণ তাত্ক্ষণিকভাবে আবাসন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।

সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের কর নীতিতে পরিবর্তনের পর গত তিন মাসে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম ৩.১ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার ৪.৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৬ শতাংশ করা হতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Technology
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ