বাংলাদেশ ডেস্ক: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন জ্যেষ্ঠ নেত্রী সামান্তা শারমিন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন, দলে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি এবং নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলার বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগপত্রে চারটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, নিজস্ব রাজনৈতিক পথ স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি জামায়াতের প্রভাবের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বড় দলের লেজুড়বৃত্তির কারণে অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৃতীয়ত, নারীদের রাজনৈতিকভাবে পেছনে ঠেলে দিয়ে এনসিপি রক্ষণশীল শক্তির সহযোগীতে পরিণত হয়েছে এবং চতুর্থত, কাউন্সিল এড়িয়ে কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়েছে।
এনসিপি সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয় নিয়ে সামান্তার অসন্তোষ নতুন ছিল না। প্রায় এক বছর আগে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ থেকে সরে দাঁড়ান। সম্প্রতি ২৩ অক্টোবর দলের কমিটি পুনর্গঠন করা হলে তাঁকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়। এর আগে জামায়াত জোটের বিরোধিতা করে তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সৈয়দা নীলিমা দোলা সহ ২০ জনেরও বেশি নেতা দল ত্যাগ করেছিলেন।
সামান্তার পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, এসব অভিযোগের কিছু ব্যক্তিগত এবং কিছু তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, সামান্তা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং পদত্যাগের মাধ্যমে সেই নিষ্ক্রিয়তাকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। ফলে তাঁর দলত্যাগে এনসিপির লাভ বা ক্ষতি কোনটিই হবে না।
এদিকে সামান্তার পদত্যাগের পর এনসিপির অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকজন নেত্রী ফেসবুকে নাম উল্লেখ না করে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা ও স্বাধীনতাসংগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক মনজিলা ঝুমা দলটির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে পরবর্তীতে সমালোচনা করার প্রবণতাকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এনসিপির বাইরে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সামান্তার সমর্থনে কথা বলেছেন। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ‘অলটারনেটিভস’-এর সংগঠক মাহফুজ আলম সামান্তাকে নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে দলের ভিত তৈরিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করার আহ্বান জানান। এছাড়া সাবেক এনসিপি নেত্রী চিকিৎসক তাসনিম জারা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামও সামান্তা শারমিনের অবস্থানের সমর্থন জানিয়েছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।