বাংলাদেশ ডেস্ক: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আদায়ের দাবি এবং দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সে (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রীরা। ফলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন অধ্যক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। পূজার ছুটির আগে কলেজের তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হয় ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর অনুষ্ঠান চলায় সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। পরে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এই দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে আন্দোলনে নামেন তারা।
কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম জানান, জরিমানা মওকুফের অনুরোধ জানাতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা ধরেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তাবাসসুম আরও বলেন, দুই শিক্ষার্থীর সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করায় এ আন্দোলন শুরু হয়। পরে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলে অধ্যক্ষ সরি অ্যাকসেপ্ট করে শাস্তিস্বরূপ অডিটোরিয়ামের ১২ হাজার ৬০০ টাকা বিল দিতে বলেন, যা শিক্ষার্থীদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, প্রায় এক বছর আগে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ বিভিন্ন অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছেন। হলের সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকলেও মাসিক ফি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে এবং আগামী বছর আরও ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বাংলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের সাবলেট দেওয়া এবং বদরুন্নেসা কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই হলের ফ্রিজ ও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, সকালে এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য না শুনে ধমক দেন। এরপরই তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান শুরু করেন এবং পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তবে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিবেচনায় রাত ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন বলেন, ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ চলায় বহিরাগত শ্রমিকরা কাজ করছেন, তাই রাতে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হওয়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।
উপাধ্যক্ষ আরও জানান, দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের কথা প্রাথমিকভাবে কেবল ভয় দেখানোর জন্য বলা হয়েছিল এবং পূজার ছুটির পর গত রোববার সিদ্ধান্ত হয় যে ফাইনাল ইয়ারের ওই দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হবে না। ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে এসি ও ফ্যান চলায় এই বিদ্যুৎ বিল এসেছে, যা হোস্টেলের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সামান্য করে সংগ্রহ করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার ঘটনার বর্ণনায় উপাধ্যক্ষ জানান, সকালে তিনি ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যক্ষের কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী কথা বলার কথা বলে তাদের বাইরে ডেকে নেন এবং সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
উপাধ্যক্ষ জানান, শিক্ষকেরা কয়েক দফায় আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। বিকেলে অধ্যক্ষকে আর ক্যাম্পাসে দেখতে চান না বলেও আলটিমেটাম দেওয়া হয়। তবে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে হওয়ায় এভাবে সাদা কাগজে পদত্যাগ নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিবকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: সমকাল

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।