ঐতিহাসিক আটলান্টিক মহাসাগরীয় দাসপ্রথায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা রিপারেশন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম আগামী সপ্তাহে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যাওয়ার প্রাক্কালে দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া এক কলামে বিষয়টিতে আলোকপাত করেন। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাজ্যের নিজস্ব জটিল ইতিহাসকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত, তবে দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনো সঠিক সমাধান হতে পারে না।
বার্নহাম তার কলামে উল্লেখ করেন, অতীতের কোনো মর্মান্তিক ঘটনা বা আইনগত ব্যবস্থার জন্য বর্তমান সময়ের ব্রিটিশ জনগণকে দায়ী করা যুক্তিযুক্ত নয়। ঐতিহাসিক সেসব অন্যায়ে বর্তমান জনগণের কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক জোরদার ও সুরক্ষার স্বার্থেই এই জটিল ইতিহাসকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে রাজা চার্লস ক্যারিবিয়ান সফরকালে ঐতিহাসিক অন্যায় ও দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট চরম দুঃখ-কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন, তবে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেননি। বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী দাসপ্রথার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ার বিধান থাকলেও, বার্নহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই নীতির পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বার্নহামের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা এবং বার্বাডোসের মতো ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর নেতারা।
বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোটলি এবং অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন এই আলোচনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন ও ঋণের বোঝা কমানোর মতো প্রধান খাতগুলোতে যৌথ সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত অমীমাংসিত বিষয়গুলো মীমাংসা করার কথা জানান তারা।
অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডনক সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আলোচনাকে অপ্রয়োজনীয় এবং মূল রাজনৈতিক ইস্যু থেকে নজর সরানোর চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেন। ব্যাডনক দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে দাসপ্রথার ২ শতবর্ষ পূর্তিতে গহীন দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন, যা তৎকালীন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল।
ব্যাডনকের মতে, অনেক কমনওয়েলথ দেশ বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে বাজেট ঘাটাতি পূরণের জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে ক্ষতিপূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে। তিনি জানান, কনজারভেটিভ পার্টি কোনোভাবেই ক্ষতিপূরণ বা নতুন কোনো অর্থনৈতিক দায়ের পক্ষে নয়। তার মতে, বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি বাজেট ভারসাম্যে নজর দেওয়াই যুক্তরাজ্যের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।