কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশি অস্ত্র হাতে মহড়া ও স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একদল কিশোর-তরুণকে দেশি অস্ত্র হাতে ‘এসবিএস’ নামের একটি গ্যাংয়ের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যাওয়ার পর এই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নগরের টমছম ব্রিজ এলাকার একটি ভাঙা ভবনের ছাদে ধারণ করা হয়েছিল। কিশোর গ্যাংটির সদস্যরা নিজেদের অবস্থান ও অস্তিত্ব প্রকাশ করতে গত শুক্রবার ভিডিওটি তৈরি করে এবং পরে তা ফেসবুকে প্রকাশ করে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর-তরুণ রামদা, চাপাতি ও ছেনিসহ বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। তাঁদের কয়েকজনের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। ভিডিওতে তাদের ‘জোরে বলো এসবিএস’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ভিডিওটি নজরকাড়ার পর সদর দক্ষিণ মডেল থানার একটি দল ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, অভিযানে ‘এসবিএস’ গ্রুপের তিন সদস্য এবং ‘সিটিজি’ গ্রুপের একজনসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রোববার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন মো. শাওন (১৯)। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় ভাড়া থাকেন। শাওন ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ‘সিটিজি’ নামের একটি গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজনের প্রত্যেকের বয়স ১৭ বছর। তারা সবাই কুমিল্লার উনাইসার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে এবং তারা ‘এসবিএস’ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তাদের মূল বাড়ি কুমিল্লা, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলায়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের থানায় থাকা কিশোর অপরাধের পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জেলায় কিশোর গ্যাংকে মাথাচাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।