মোঃ মনির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্ট নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে কলেজের পেছনে ছাত্রাবাসের ভেন্যুতে। মূল কলেজের সামনের মাঠে বিশাল প্যান্ডেলে এখন শুধু আলোচনা সভা হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে হোস্টেল এলাকার মাঠে। আগামীকালের এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে দুটি ভেন্যুতে সাজসজ্জার কাজ চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্ট নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে কলেজের পেছনে ছাত্রাবাসের ভেন্যুতে। মূল কলেজের সামনের মাঠে বিশাল প্যান্ডেলে এখন শুধু আলোচনা সভা হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে হোস্টেল এলাকার মাঠে। আগামীকালের এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে দুটি ভেন্যুতে সাজসজ্জার কাজ চলছে।
কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্টে আপত্তি জানিয়ে শুক্রবার সদর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
শনিবার এ নিয়ে সদর সংসদ সদস্য কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন। সেখানে ভেতরের দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ নিয়ে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয়। তাদের একজন বলেন, ‘আমাদের এই কলেজে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরাই পড়ালেখা করে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখি, কিন্তু পাশাপাশি সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবেই এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করব।’
আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নবীনদের বরণ করবে, এটা সম্পূর্ণই কলেজের নিজস্ব ব্যাপার। এখানে বহিরাগত কেউ এসে কোনো হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই আসে না। সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই কলেজের শিক্ষার্থী এবং অথরিটির।
শিক্ষার্থীদের আরেকজন বলেন, ‘আমাদের মূল দক্ষিণ ক্যাম্পাসটা চারিদিকে বাউন্ডারি দিয়ে ব্লক করা। তাই বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি এই ক্যাম্পাসে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন বলেন, ‘কনসার্ট আমরা কখনো বলি নাই। আপনি আমাদের দাওয়াতপত্রে দেখবেন– নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এখানে কোনো কনসার্টের কথা বলা নাই, আমরা কনসার্ট করব না।
তিনি আরো বলেন, মূলত এইটা প্রোগ্রামটা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রোগ্রাম, ছাত্র-ছাত্রীরাই আয়োজন করতেছে। এখানে কনসার্টের ব্যাপারে কোনো কথা হয় নাই, কনসার্ট হবে না। কনসার্ট আমরা করব না, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সেখানে চড়াও হয়।
এতে পণ্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান। সে সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হন।
গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয়। শনিবার হয়ে যাওয়া নৌকা বাইচের প্রশাসনের প্রস্তুতি সভায় সাউন্ড বক্স বাজানো নিষেধ করা হয়।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।