আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের করাচি শহরের বিভিন্ন বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং প্রাইস কন্ট্রোল কমিটির কথিত অবহেলার সুযোগ নিয়ে অসাধু মুনাফাখোররা সরকারি নির্দেশিত মূল্য তালিকা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করাচির বাজারগুলোতে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দামে পণ্য বিক্রি করছেন এবং অনেকেই সরকারি পণ্যের মূল্য তালিকা সরিয়ে ফেলেছেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহু গুণ বেশি দামে শাকসবজি, ফল ও মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি কেজি আলুর দাম ৩৫ রুপি নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ রুপিতে। একইভাবে সরকারিভাবে নির্ধারণ করা ১৫০ রুপি কেজি পিয়াজের বিপরীতে বিক্রেতারা নিচ্ছেন ১৮০ রুপি।
টমেটোর সরকারি দর প্রতি কেজি ২১৯ রুপি হলেও বাজারে তা ২৫০ থেকে ৩০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি ১৯৬ রুপির ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ রুপিতে। প্রতি কেজি মটরশুঁটির সরকারি দর ৩১১ রুপি হলেও সাধারণ ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ৪০০ রুপিতে।
শাকসবজির পাশাপাশি নিত্যব্যবহার্য ধনেপাতা ও পুদিনাপাতার দামও অনেক বাড়ানো হয়েছে। সরকারি তালিকায় প্রতি আঁটি ধনেপাতার দাম ৯ রুপি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ রুপিতে। আর ১২ রুপি নির্ধারিত মূল্যের পুদিনাপাতা প্রতি আঁটি বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ২০ থেকে ৩০ রুপিতে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শাকসবজির পাশাপাশি মাংসের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। করাচিতে প্রতি কেজি মুরগির মাংসের সরকারি দর ৫৮০ রুপি হলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ রুপি পর্যন্ত।
ফলের বাজারেও এই অনিয়ম চোখে পড়ার মতো। সরকারি দর অনুযায়ী প্রতি ডজন কলার দাম ৮৬ রুপি হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ রুপিতে। প্রতি কেজি ১৩০ রুপির খরবুজা বিক্রি হচ্ছে ২০০ রুপিতে এবং ১৮২ রুপি মূল্যের অমলুক (পারসিমন) বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০ রুপিতে। এভাবে প্রশাসনিক তদারকির অভাবে বাজারে বাজারে পণ্যের চড়া দাম আদায় করা হচ্ছে, যা পাকিস্তানে চলমান মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।