কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ তুললেন বহিষ্কৃত রিফর্ম নেতার সাবেক শিক্ষার্থী

বুলিংয়ের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ পেলেও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণের জেরে জেমস অর-এর বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক সাবেক পিএইচডি শিক্ষার্থী।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ তুললেন বহিষ্কৃত রিফর্ম নেতার সাবেক শিক্ষার্থী
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

শিক্ষা ডেস্ক: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র বহিষ্কৃত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. জেমস অর-এর বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ প্রক্রিয়া শুরু করছেন তার এক সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ নিয়ে অসংগতি দেখা দেওয়ায় ওই সাবেক পিএইচডি শিক্ষার্থী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে কেমব্রিজের অফিস অব স্টুডেন্ট কন্ডাক্ট, কমপ্লেইন্টস অ্যান্ড অ্যাপিলস (ওএসএসসিএ)-এর অভিযোগ পর্যালোচক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা বুলিং বা হয়রানির অভিযোগ আংশিকভাবে সত্য বলে প্রমাণ পান। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মানসিক কষ্ট ও টিউশন ফি বাবদ ওই শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ড. জেমস অর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি অনুষদে কর্মরত রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেল ফারাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেমস অর ও আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশি রাজনৈতিক অনুদানসংক্রান্ত নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এর একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জেমস অর-এর আচরণ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয়। একই ঘটনায় রিফর্ম ইউকে-এর নীতিবিষয়ক প্রধানের পদ থেকেও তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

নতুন এই ঘটনায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সাবেক একজন থিওলজি বা ধর্মতত্ত্বের পিএইচডি শিক্ষার্থীর একাডেমিক অবহেলা ও হয়রানির পুরোনো অভিযোগ যেভাবে সামাল দিয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জেমস অর-এর আচরণের শিকার হয়ে ওই শিক্ষার্থী গত বছরের জানুয়ারিতে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন না করেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যান।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই বছরের শুরুর দিকে ওএসএসসিএ শিক্ষার্থীর অভিযোগটি আংশিকভাবে বহাল রাখে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থী ডিভিনিটি অনুষদের বোর্ড চেয়ারম্যান রিচার্ড রেক্সের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনাপত্রও পান। সেখানে স্বীকার করা হয় যে, অর-এর আচরণ ওই শিক্ষার্থীর জন্য মানসিক কষ্টদায়ক ও একাডেমিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পর মামলাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাবেক এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, জেমস অর-এর বিরুদ্ধে অনুশাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সাথে সত্য গোপন করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে অর-এর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর এই বৈপরিত্য প্রকাশ্যে আসে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেমস অর জানান, তিনি তদন্তের সিদ্ধান্ত বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি। এই বক্তব্য কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, স্টাফদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক তদন্তের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওই শিক্ষার্থী জানান, এই অভিজ্ঞতার ফলে তার আত্মবিশ্বাস দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে গেছে। প্রথম বর্ষের আপগ্রেড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তিনি পিএইচডি না করে কেবল পোস্টগ্রাজুয়েট সার্টিফিকেট নিয়ে কেমব্রিজ ছাড়তে বাধ্য হন।

ওই শিক্ষার্থী আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজের এবং জেমস অর-এর আচরণের শিকার হওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সুবিচারের জন্য অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কেমব্রিজে অর-এর অধীনে থাকা বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় তাদের সুস্পষ্ট নীতি ও প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় তারা কোনো ব্যক্তিগত মামলা বা বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে জেমস অর ওএসএসসিএ-এর কাছে সাক্ষাৎকার দিলেও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তার আর কী করার ছিল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীর দেওয়া বিবরণ মানতে রাজি হননি। দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে জেমস অর নতুন করে কোনো মন্তব্য করেননি।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Education
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ