
খাগড়াছড়িতে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক সদস্যের বাগানবাড়ি থেকে আইইউসিএনের মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণীর লাল তালিকাভুক্ত এশিয়ান কালো ভালুকসহ হরিণ ও বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকায় বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ অভিযানে সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাগানবাড়ি থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে একটি এশিয়ান কালো ভালুক, ছয়টি মায়া হরিণ এবং দুটি স্থানীয় প্রজাতির বানর। খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চট্টগ্রামস্থ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূরজাহান এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, গোপন সূত্রে ওই বাগানবাড়িতে বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী রাখার তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি চট্টগ্রামস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়। পরে ওই বিভাগের একটি বিশেষ দল খাগড়াছড়ি এসে বন বিভাগের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বাগানবাড়ির একটি লোহার খাঁচায় আটক রাখা বিরল প্রজাতির এশিয়ান কালো ভালুকসহ অন্যান্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৮০ কেজি ওজনের এশিয়ান কালো ভালুকটি আইইউসিএনের মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণীর লাল তালিকাভুক্ত। বন্যপ্রাণী ধরা, পালন বা হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমা আইন সম্পর্কে না জেনে স্থানীয়ভাবে বন্যপ্রাণীগুলো সংগ্রহ করে বাগানবাড়িতে লালন-পালন করছিলেন বলে জানিয়েছেন।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলো বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর পার্কের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে।
