আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের ফলে বাজারে তৈরি হওয়া সংকটের কারণে টিনজাত বা ক্যানজাত ম্যাকারেল মাছে পরিবর্তন আনছে বিভিন্ন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সাধারণ বা ঐতিহ্যবাহী ম্যাকারেলের বদলে ক্যানে রাখা হচ্ছে ‘জ্যাক ম্যাকারেল’ নামক অন্য একটি প্রজাতির মাছ। তবে একই বা প্রায় সমপরিমাণ দামে এই নিম্নমানের প্রজাতি বিক্রি করায় ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত এক বছরে প্রিন্সেসের মতো বড় ব্র্যান্ড এবং কিছু সুপারমার্কেট তাদের নিজস্ব টিনজাত ম্যাকারেল ফিলেটে পরিবর্তন এনে জ্যাক ম্যাকারেল ফিলেট ব্যবহার শুরু করেছে। প্যাকেজের গায়ে নাম উল্লেখ করা থাকলেও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসল তৈলাক্ত ম্যাকারেল মাছের কোনো সঠিক বিকল্প হতে পারে না। কারণ জ্যাক ম্যাকারেল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির একটি মাছ, যার স্বাদ, গন্ধ, টেক্সচার এবং পুষ্টিগুণ একেবারেই আলাদা।
প্রিন্সেস ছাড়াও সম্প্রতি সুপারমার্কেট চেইন ‘লিডল’ এই পরিবর্তনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ক্যানজাত সামুদ্রিক খাবারের পর্যালোচক মার্কাস আনসেল সম্প্রতি এক ভিডিওতে লিডলের আসল ম্যাকারেল ফিলেটকে ১০-এর মধ্যে ৮ রেটিং দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে স্থান পাওয়া মেরিন স্টুয়ার্ডশিপ কাউন্সিল (এমএসসি) অনুমোদিত নতুন জ্যাক ম্যাকারেলের মানকে তিনি ১০-এর মধ্যে মাত্র ৩.৫ দেন।
মার্কাস আনসেল জানান, জ্যাক ম্যাকারেল মানে দিক থেকে অনেকটাই নিম্নমানের এবং এটি আসল ম্যাকারেলের বিকল্প হতে পারে না। এটি স্বাদ, গন্ধ ও টেক্সচারে সাধারণ ম্যাকারেলের মতো নয়। অনেক গ্রাহক আসল ম্যাকারেল মনে করে কিনে বাড়ি নিয়ে খাওয়ার পর চরম হতাশ হয়েছেন বলে তাকে জানিয়েছেন।
পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রেও দুটি মাছের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সপ্তাহে দু’বার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, জ্যাক ম্যাকারেলে তার পরিমাণ সাধারণ ম্যাকারেলের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অথচ ফাইনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, চিলির জ্যাক ম্যাকারেলের দাম আটলান্টিকের আসল ম্যাকারেলের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। কম দামি মাছ ক্যানে ব্যবহার করে আগের দামেই বিক্রি করাকে ভোক্তা সংস্থা ‘স্কিম্পফ্লেশন’ বলে অভিহিত করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘উইচ?’-এর খাদ্য নীতি বিষয়ক প্রধান সু ডেভিস বলেন, সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার জন্য ক্যানজাত মাছ বেশ জনপ্রিয়। প্রসেসর বা প্রস্তুতকারকরা সরবরাহ সংকট ও টেকসই উৎপাদনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন, তবে পণ্যের রেসিপি বা উপাদান পরিবর্তন করলে তা গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। ক্রেতারা না জেনে পণ্য কিনে প্রতারিত বোধ করছেন।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ গত বছর পণ্যের লেবেলিং নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়মে এই প্রজাতিটিকে ‘জ্যাক ম্যাকারেল’ নামে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে এটি কেবল ‘হর্স ম্যাকারেল’, ‘জ্যাক’, ‘স্ক্যাড’ বা ‘ট্রেভ্যালি’ নামে বিক্রি করা যেত।
মেরিন কনজারভেশন সোসাইটি (এমসিএস) গত বছর সতর্ক করে বলেছিল যে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে ম্যাকারেলের মজুদ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির ‘গুড ফিশ গাইড’-এ উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক ম্যাকারেলকে লাল তালিকায় রেখে এটি খাওয়া বা কেনা এ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সংকটের জবাবে প্রিন্সেস জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাছ আহরণের উদ্বেগের কারণে তারা উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক ম্যাকারেল ব্যবহার থেকে সরে এসেছে। প্যাকেজে নতুন মাছের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। ভবিষ্যতে টেকসই ব্যবস্থাপনা ফিরলে এবং এমএসসি সনদ পাওয়া গেলে তারা পুনরায় আগের ম্যাকারেল ব্যবহারে বিবেচনা করবে।
অন্যদের মধ্যে লিডল জানিয়েছে যে তারা এমএসসি-সনদপ্রাপ্ত চিলির জ্যাক ম্যাকারেল ব্যবহার শুরু করেছে এবং পরবর্তী কেনাকাটার সময় বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ও তাদের নীতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে ওয়েটরোজ নামক প্রতিষ্ঠান ম্যাকারেল বিক্রি স্থগিত করে গ্রাহকদের হেরিং বা অন্য মাছ কেনার পরামর্শ দিয়েছিল।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।